সারাদেশ

শ্রেণিকক্ষ সংকটে বারান্দায় পাঠদান নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চও

ঢাকা , ১০ আগস্ট , (ডেইলি টাইমস ২৪)

রাণীনগর উপজেলার শেষ সীমানার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত খাস পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে শুধু শ্রেণিকক্ষের সংকটই নয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, কক্ষে নেই বৈদ্যুতিক ফ্যান। এ রকম নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পারইল ইউনিয়নের পারইল গ্রামে অবস্থিত খাস পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৮০ সালে স্থানীয় কিছু শিক্ষিত মানুষ নিজেদের অর্থে ৩৩ শতাংশ জমি কিনে স্থাপন করেন বিদ্যালয়টি। ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি রেজিস্টার্ড থেকে সরকারি করা হলেও এখনো আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। নেই আধুনিক মানসম্মত ভবন। কক্ষ সংকটের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিশুদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন আগে নির্মিত একতলা একটি ভবনে রয়েছে শুধুমাত্র তিনটি পাঠদান কক্ষ অথচ প্রতিদিন এই বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫৬ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে। প্রতিটি কক্ষে চারটি করে ফ্যান থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একটি কিংবা দুইটি। তাই প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে শিশুদের পাঠ গ্রহণ করতে হয়।

রিনা খানম, সমিতা রানী পালসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয় উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত। আমাদের সন্তানরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষাগ্রহণ করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রেণিকক্ষ নেই। অনেক জায়গা রয়েছে। তাই সরকার যদি একটি আধুনিক মানসম্মত নতুন ভবন নির্মাণ করে দিতো তাহলে বারান্দায় মাদুরে বসে আমাদের সন্তানদের আর শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো না।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আনছার আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের নেই নিজস্ব কোনো তহবিল। তাই আমরা এলাকাবাসী মিলে যতটুকু করতে পারি। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। একটি নতুন ভবন হলে কক্ষ সংকট থেকে আমরা মুক্তি পেতাম। পর্যাপ্ত আধুনিক মানসম্মত বেঞ্চ থাকলে শিক্ষার্থীরা বসে আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণ করতে পারতো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী বেগম বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে পাঠদান করাই। এলাকার অনেক মানুষ বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা দেখে তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করায় না। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ রয়েছে বেঞ্চের সংকট, জরুরি কাগজপত্র রাখার জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আসবাবপত্র, নেই অফিস কক্ষ। এছাড়াও দীর্ঘদিন পর বিদ্যুত্ এলেও শ্রণিকক্ষে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যান। তবুও শিক্ষার্থীরা শত সংকট কাঁধে নিয়ে প্রতি বছর ভালো ফলাফল করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান বলেন, ‘আমি এই বিদ্যালয়ের সব সমস্যা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা রাখি কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

আরো সংবাদ...