সাক্ষাৎকার

মাশরাফি যোদ্ধা; সাকিব কৌশলী : টাইগার কোচ

ঢাকা , ১১ আগস্ট , (ডেইলি টাইমস ২৪)

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নবনিযুক্ত কোচ স্টিভ রোডস ‘স্ট্রেইট খেলা পছন্দ করেন।’ দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নির্বোধ কোনো পন্থা অবলম্বন করতে চাননা তিনি। জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সফলতা এনে দিয়েছেন। ক্যারিবীয় সফরে টাইগারদের দুটি সিরিজ জয় এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তবে অন্য কোচের মতো শুধু জাতীয় দল নিয়ে পড়ে থাকতে চাননা তিনি। সুযোগ পেলে বিশ্রামের পরিবর্তে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দিকেও নজর দিতে চান রোডস।

‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা নিতে এখন আয়ারল্যান্ড যাচ্ছেন জাতীয় দলের এই কোচ। দলের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নির্মাণের লক্ষে গত ২ দিন তিনি কাটিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ দল নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথা খোলাখুলি বলেছেন রোডস।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলকে নিয়ে এ পর্যন্ত আপনার অভিজ্ঞতা কী?

রোডস: এখনো পর্যন্ত ভালোই। দলে উত্থান ও পতন দুটিই রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে (ক্যারিবীয় অঞ্চলে) ছেলেদের পারফর্মেন্স খারাপ নয়। বিশেষ করে টেস্টে ব্যর্থতার পর ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। সত্যিকার অর্থে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এমন একটি মানসিকতার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা যোগ দেয়ার পরেই সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে?

রোডস: আপনি যদি বাংলাদেশ দলের দিকে তাকান, মাশরাফি অসাধারণ অধিনায়ক। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। সে নিজেই একজন ‘যোদ্ধা’ অধিনায়ক এবং সবাই তাকে অনুসরণ করে।

প্রশ্ন: সাকিব প্রসঙ্গে কী বলবেন?

রোডস: টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আমরা সাকিবকে পেয়েছি। কৌশলগতভাবে সে চমৎকার অধিনায়ক। তার খেলার ধরনের কারণে দলের সবাই তাকে সম্মান করে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তার ক্রিকেটীয় মেধা অসাধারণ। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি টি-টোয়েন্টি খেলে বেড়ায় ও। দলের সব খেলোয়াড় সম্পর্কেও সে খুব ভালো ধারণা রাখে। আমরা ভাগ্যবান, কারণ দুজন অসাধারণ অধিনায়ক পেয়েছি।

প্রশ্ন: টেস্টের সঙ্গে তুলনা করলে আপনি কি মনে করেন সাকিব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশী পারদর্শী?

রোডস: অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে ক্রিকেট হচ্ছে অন্য মাপের একটি খেলা। বিশ্বের অনেক সেরা অধিনায়কও অনেক সময় দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারেনা। সবকিছু একজনের কাছে পাওয়া বেশ কঠিন। প্রথম টেস্টে আমরা যখন টসে হেরে গেলাম তখন ৪৪ রানেই অল আউট হয়ে যাই। এর অর্থ হচ্ছে ভাগ্য ওই সময় আমাদের সম্পূর্ণ বিপক্ষে ছিল। আমি বলতে চাই, বিশ্বের সেরা অধিনায়কের পক্ষেও এটিকে ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব হয় না। এটিকে সাকিবের অধিনায়কত্বের ব্যর্থতা নয়। সে খুবই ভালো অধিনায়ক। টেস্টে আমরা যদি টস জিততে পারতাম, ভালো সুচনা করতে পারতাম, তাহলে হয়তো পর্যাপ্ত অনুপ্রেরণাও পেয়ে যেতাম। সাকিব মান সম্পন্ন ক্রিকেটার। মাশরাফিও তাই। সুতরাং এমন দুজন খুবই ভালো অধিনায়ক পেয়ে বাংলাদেশ দলের গর্ব করা উচিৎ।

প্রশ্ন: ঠিক কী লক্ষ্য নিয়ে আপনি আয়ারল্যান্ড যেতে চান?

রোডস: এখন পর্যন্ত আমি টেস্ট, ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি দল দেখেছি। সুতরাং এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২০-২২ জন খেলোয়াড় আমি দেখেছি। আয়ারল্যান্ডে আমি কিছু নতুন খেলোয়াড় দেখতে পাব। আমি যাদের দেখার অপেক্ষায় আছি। পরবর্তী একটা গ্রুপকে দেখা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আমি দেখেছি। আয়ারল্যান্ড গিয়ে বাকীদেরও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাব। আশা করছি ‘এ’ টিমের কোচ সিমন হেলমুটের সঙ্গেও কিছু সময় কাটাতে পারব। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে গভীরে নিয়ে যেতে হলে ‘এ’ দলকে দাঁড় করাতে হবে। এখনো পর্যন্ত খারাপ করছে না। তাদের খেলা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন: আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ১৮২ রান করেছেন মমিনুল। তাকে কি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা আছে?

রোডস: মমিনুলের ১৮২ রানের ইনিংসটি দেখার মতো ছিল। ব্যক্তিগতভাবে তার জন্যও এটি একটি সুখবর। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও। কারণ সে একজন মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলার মত যোগ্যতা প্রমাণ করেছে সে। ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি ভালো দিক।

প্রশ্ন: তামিম ইকবালের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে কি লিটন দাসকে ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে?

রোডস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সে (লিটন) ভালো খেলেছে। কিন্তু আরো অনেক ম্যাচেই তাকে ওপেনিংয়ে খেলানো হয়েছে, যেখানে সে খুব একটা ভালো করতে পারেনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শেষ ম্যাচে তার খেলাটি অবশ্য দারুণ হয়েছে। কারণ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে খুবই পাওয়ারফুল ম্যাচ খেলেছে, যা অবশ্যই বিবেচনার যোগ্য। ওই ম্যাচে সোরার পুরস্কার জয়ের বিষয়টি তার এবং বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছু। আশা করছি ভবিষ্যতে সে নিজেকে আরও ওপরে নিয়ে যাবে।

আরো সংবাদ...