অর্থ ও বাণিজ্য

পোশাক কারখানার বড় চ্যালেঞ্জ আধুনিক প্রযুক্তি

ঢাকা , ৩০ আগস্ট , (ডেইলি টাইমস ২৪)

দেশের মোট পোশাক কারখানার মাত্র ২১ শতাংশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাকিগুলো চলছে পুরান পদ্ধতিতে। যার কারণে এ খাতে সার্বিক অগ্রগতি হলেও সে হারে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়েনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে পোশাক খাতের উপর আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকও তৈরি করতে হবে। আর এটি নিশ্চিত করায় পোশাক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

‘ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন পোস্ট রানা প্লাজা পিরিয়ড ফাইন্ডিংস ফরম সিপিডি সার্ভে’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় গার্মেন্টস সেক্টরের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রবন্ধ তুলে ধরেন সহযোগী গবেষক অবীর খন্দকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের পোশাক কারখানাগুলো এখনও পারিবার তন্ত্রের মাধ্যমে চলছে। অধিকাংশ কারখানায় দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রজন্মও এসেছে।

সিপিডির প্রতিবেদন বলছে, দেশের মোট ৬৫ শতাংশ গার্মেন্টস দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালতি। ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের তিনজন পরিচালকের মধ্যে দুজনই একই পরিবারের। সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো স্বাধীন পরিচালক নেই। একই সঙ্গে ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান একই গ্রুপের ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে ১৯ শতাংশ কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে আশঙ্কার বিষয়, এর বড় অংশই ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত।

কারিগরি উন্নয়ন গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ২১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। খুবই নিম্ন মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। আর ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চার শতাংশে উন্নত প্রযুক্তি, ৩৮ শতাংশে মধ্যম ও বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। এ ছাড়াও, বিকেএমইএর চেয়ে বিজিএমইএর প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা তিন দশমিক এক শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামগ্রিকভাবে যে নীতি কাঠামো আছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রণোদনা দেয়া হয় সেগুলোকে পুর্নবিবেচনা করা দরকার। যে উত্তরণ আমরা চাচ্ছি, সেই রুপান্তরের সঙ্গে এ নীতিগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না সেগুলো ভালো করে বিবেচনা করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, পোশাক রফতানি বহুমুখীকরণের অগ্রগতি খুবই সীমিত। তবে একেবারেই যে নেই, তা নয়। পোশাক রফতানিতে গড় ‘লিড টাইম’ (পণ্য পরিবহনের বেধে দেয়া সময় বা নির্দিষ্ট সময়কাল) কমেছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে কারখানার আয়তন ও স্থান সম্পৃক্ত। সব কারখানায় প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটছে না। কারখানায় ব্যবস্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে খুব একটা উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের উৎপাদনশীলতা এখনও খুবই নিম্ন।

বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, অনেক গার্মেন্টস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে গেছে। মালিকানায় পরিবর্তন আসছে। শুধু দ্বিতীয় প্রজন্ম নয়, কোনো কোনো কোম্পানিতে তৃতীয় প্রজন্মও এসেছে। কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট শুরু হয়েছে। দিনে দিনে পরিবর্তন আসছে। ভবিষ্যতে মূলধনের জন্য শেয়ার মার্কেটেও যেতে হবে। এ ছাড়া পোশাক রফতানি বাড়লেও বাইরে থেকে জনবল আমদানি কমেছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন টপ ম্যানেজমেন্টের কর্মী দেশেই গড়ে উঠে।

দিনব্যাপী এ সেমিনারে তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, পোশাক খাতের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button