লাইফস্টাইল

বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকানোর কৌশল

ঢাকা , ২ সেপ্টেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪)

আপনার দাম্পত্যজীবন হয়তো আপনার কাছে রহস্যময় বলে মনে হতে পারে। অথবা এমন হতে পারে যে, আপনার ভালোবাসার মানুষটি এখনো আপনার কাছে অচেনা। যদিও কিছু সম্পর্কের ব্যর্থতা শুরু থেকেই বোঝা যায়, আবার কিছু সম্পর্ক ঠিকঠাক বলে মনে হলেও একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ফিকে হয়ে আসে।

কিছু গবেষক বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের পূর্বাভাসের বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করেছেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেশ কার্যকর এবং তাঁরা এসব পূর্বলক্ষণ ব্যবহার করে কিভাবে ডিভোর্স আটকানো যায় সেটা বের করেছেন।

বাসেল ম্যাগাজিনকে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ডেভিড বেনেট বলেন, ‘সম্পর্ক ঠিকঠাকভাবে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা অপরিহার্য। বেশ কিছু কার্যকরী পদ্ধতি আছে যেগুলোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরো সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ করে তোলা যায়।’

আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ডা. জন গোটম্যান এ বিষয়ে গবেষণায় বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। আচরণ ও কথাবার্তার বিভিন্ন ধরন ভেদে ডা. গোটম্যান সুখী এবং অসুখী দম্পতির পার্থক্য করতে পারেন। ডিভোর্সের পূর্বাভাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা প্রায় ৯০ শতাংশ সঠিক এবং বর্তমানে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্পর্ক বুঝতে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে আপনার চোখ বুলানো কঠিন হতে পারে, কিন্তু ডা. গোটম্যানের কৌশলগুলো বিভিন্ন রোমান্টিক সম্পর্কগুলোয় ব্যবহার করাটা সহজ।

দাম্পত্যজীবন সুন্দর এবং আনন্দঘন করে তুলতে বিভিন্ন রোমান্টিক সম্পর্কের পেছনে থাকা বিজ্ঞানকে বুঝলে, সম্পর্ক ধরে রাখা সহজ হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী ৯টি এমন কৌশল আছে, যা ডিভোর্স প্রতিরোধে সক্ষম। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* ম্যাজিক অনুপাত
কোনো দম্পতির মধ্যে ঝগড়া লাগলে ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক দিকগুলো সাধারণত বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে ঝগড়া একরকম দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। কিন্তু ডা. গোটম্যান সুখী দম্পতিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, তাদের মধ্যে ঝগড়া লাগলে তারা ইতিবাচক সময়গুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ফলে তাদের সম্পর্কের ভালো এবং খারাপ মুহূর্তের অনুপাত দাঁড়ায় ৫ বনাম ১। ডা. গোটম্যান এটাকে ম্যাজিক অনুপাত বলেন। এসব দম্পতির মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব লাগলেও তারা হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে দ্বন্দ্বের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

যেসকল দম্পতি সহজেই ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে চলে যান তাদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হচ্ছে ১ বনাম ১ অথবা তার চেয়ে কম। অর্থাৎ তাদের দাম্পত্যজীবনে ভালো এবং খারাপ মুহূর্তের স্থায়িত্ব বা পরিমাণ প্রায় সমান অথবা ভালো মুহূর্তের পরিমাণ কম। সুতরাং আপনার সম্পর্ক আরো মধুর করতে হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ডা. গোটম্যানের গবেষণা অনুযায়ী, হাতে হাত রাখা, ঠাট্টা-মস্করা করা, সহানুভূতি দেখানো এবং ক্ষমা চাওয়ার মতো ছোটখাট ব্যাপার আপনার সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

* মনোমালিন্যে আক্রমণাত্মক না হওয়া
দাম্পত্য জীবনে ছোটখাট কথা কাটাকাটি অথবা তর্কাতর্কি খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। ডা. গোটম্যানের মতে, ছোটখাট তর্ক বা ঝগড়ায় স্বামী অথবা স্ত্রী যদি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন তাহলে তাদের দাম্পত্যজীবন ব্যাহত হবে এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য ডিভোর্সের অন্যতম একটি পূর্বাভাস।

ডা. গোটম্যান বলেন, ‘সাধারণত কোনো তর্ক বা ঝগড়া প্রথম ৩ মিনিট শুনলেই সেটার ভেতরের রহস্য বোঝা যায়। সুতরাং তর্কে না জড়িয়ে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন এবং আলোচনার ইতিবাচক দিকগুলো আপনার সঙ্গীকে বোঝান। টিটকিরি বা অতিরিক্ত সমালোচনাপূর্ণ কোনো কথা বলবেন না।’ সাবধানতার সঙ্গে ঠিকঠাক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিন। সামান্য এইটুকু কৌশল অবলম্বনে আপনার দাম্পত্য জীবন সুখের হবে।

* সঙ্গীর সমালোচনা না করা
সঙ্গীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলে ‘সবসময়’ অথবা ‘কখনোই না’ সম্পর্কিত ভাষাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। সর্বদা সঙ্গীর সমালোচনায় মুখর হলে দাম্পত্য জীবন ডিভোর্সের দিকে ত্বরান্বিত হয়। ডা. গোটম্যান তাঁর গবেষণায় সঙ্গীর প্রতি চার ধরনের নেতিবাচক আচরণের কথা বলেছেন, যা একটি সম্পর্ককে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। এই চারটি আচরণ হল- সমালোচনা করা, অবজ্ঞা করা, অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হওয়া এবং এড়িয়ে চলা। কোনো সম্পর্কে এই চারটি ব্যাপার যুক্ত থাকলে সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না। সুখী দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে ‘তুমি খালি নিজের কথাই ভাবো’ এবং ‘তুমি খুব স্বার্থপর’ গোছের কথাবার্তা এড়িয়ে চলেন। তারা সাধারণত একে অপরের কাছ থেকে আঘাত পেলে সেটা সঙ্গীর কাছে খুলে বলেন।

* অবহেলা না করা
আপনার সঙ্গীর সঙ্গে আপনার তর্কের প্রথম ৩ মিনিট খুব বিপজ্জনক একটা সময়, এ সময়ে কঠিন এবং আঘাতপূর্ণ ভাষা এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি তর্কের মাঝামাঝি সময়েও। ঝগড়ার সময়ে সঙ্গীর সঙ্গে টেক্কা দেয়াটা সম্পর্ককে চরম খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ডা. গোটম্যান বলেন, ‘আপনি যদি আপনার সঙ্গীর ওপর কর্তৃত্ব খাটিয়ে তাকে কোনো কথা বলেন, পরবর্তীতে তা ডিভোর্সের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দেবে।’

সুখী দম্পতিদের মধ্যে কেউ কাউকে অবহেলামূলক কথা বলেন না বা তারা একে অন্যের উপর কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করেন না। তারা এটা মানেন যে, তারা উভয়ই সমান এবং একে অন্যের উপযুক্ত সঙ্গী।

আরো সংবাদ...