বিনোদন

এবং মেহ্জাবীন

ঢাকা , ৬ সেপ্টেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪)

শুরুতেই একটা তথ্য দিলেন মেহ্জাবীন চৌধুরী। এবারের ঈদে তাঁর অভিনীত ২৫টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। শুধু টেলিভিশনে নয়, অনলাইনের জন্য নির্মিত নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। এত নাটক করার সময় কীভাবে পেলেন? ‘সব কটি এই ঈদুল আজহার আগে শুটিং করেছি, এমন নয়। দু-তিনটি গত ঈদুল ফিতরের সময় শুটিং করা ছিল। সব মিলিয়ে ২৫।’ বললেন মেহ্জাবীন। তবে ২৫টি নাটকের চিত্রনাট্য হুট করে সামনে এসেছে, তারপর অভিনয় শুরু করেছেন, এমন নয়। ২৫টি নাটক বাছাই করেছেন তাঁর কাছে আসা ১০০টির বেশি নাটকের চিত্রনাট্য থেকে। জানতে চাই, নাটকের চিত্রনাট্য বাছাইয়ের বেলায় কোন তিনটি জিনিস গুরুত্ব দেন?

একটু ভাবেন মেহ্‌জাবীন। তারপর বেশ গুছিয়ে বলেন, ‘প্রথমত নাটকটির গল্প, তারপর পরিচালক এবং সবশেষে চরিত্র। এই তিনটি ঠিকঠাক হলে আমি চেষ্টা করি সেরাটা দিয়ে কাজটা করতে। না হলে আগেই না করে দিই। এমন হয়, হয়তো গল্পে আমার উপস্থিতি কম কিন্তু চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ। হোক সেটা অতিথি চরিত্র। তবু করি।’ উদাহরণ টেনে বলেন, এবারের ঈদে প্রচারিত শোক হোক শক্তি টেলিছবিটি দেখলে সবাই বুঝবেন।

অভিনয়ের বেলায় নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী মেহ্জাবীন। তাঁর ভাষায়, নতুনদের উদ্যম বেশি থাকে। চেষ্টা ও নিজেকে ঢেলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে। এ কারণে কাজ করে আনন্দ পাওয়া যায়। এই আনন্দ নিয়েই প্রতিদিন নতুন নতুন চরিত্রে ঢুকে যান মেহ্জাবীন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুটিংয়ে ঢোকেন। রাত ১০টায় বের হন। রাতভর প্রস্তুতি নেন নতুন চরিত্রের। সেটা কেমন?

মেহ্জাবীনের ভাষায়, ‘আমাদের এখানে নাটক নির্মাণ যে কতটা কষ্টসাধ্য কাজ, সেটা যুক্ত না হলে কেউ বুঝবে না। এত অল্প সময়ে একটার পর একটা চরিত্রে ঢুকতে হয়, এমনকি চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক (কস্টিউম) যখন অভিনয়শিল্পীকেই সংগ্রহ করতে হয়, তখন আসলে এর চেয়ে কঠিন কাজ আর হয় না। চরিত্র নিয়ে চিন্তা করার সময়ই কম পাওয়া যায়। আসলে শুধু অভিনয়শিল্পীরা নন, নাটকের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে অবর্ণনীয় পরিশ্রম করেন।’

নিশো, অপূর্ব কে কেমন?

এই সময়ে মেহ্জাবীন সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও অপূর্বর সঙ্গে। প্রশ্ন ছিল কে কেমন অভিনেতা। কাউকে নিয়েই নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি। কারণ, নাটকে দুজন প্রেমিক বা স্বামী হলেও বাস্তবে দুই ভাই। তাই উত্তরটা একটু ভেবেই দিলেন, ‘নিশো ভাইয়ের সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। তিনি “ভার্সেটাইল” অভিনেতা। তাঁর কাজ দেখে নিজের ভেতর আগ্রহ তৈরি হয়। আর অপূর্ব ভাইয়ের কথা বলব, অপূর্ব ভাইয়াকে এখন বলা হয় রোমান্টিক হিরো। মজার ব্যাপার হলো, বড় ছেলে জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে অনেক নাটকের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সেটা ইচ্ছা করেই করিনি। সবাই যেন বিরক্ত না হন।’

যে ‘উত্তর’ সবার জন্য

কথা চলতে থাকে। এক ফাঁকে দুটি প্রশ্নের উত্তর সবাইকে জানিয়ে দিতে বললেন মেহ্জাবীন। একটি প্রশ্ন তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, মেহ্জাবীন একই রকম চরিত্রে বেশি অভিনয় করেন। এই অভিনেত্রীর উত্তর, ‘তাঁরা নিশ্চয়ই আমার নাটকগুলো বেশি দেখেন না। এবারের ঈদের কথাই যদি বলি, ২৫টি নাটকের মধ্যে রোমান্টিক নাটক আছে, কমেডি আছে, ট্র্যাজেডিও আছে। সব ধরনের গল্পের স্বাদ পাবেন দর্শক। তাই সবাইকে অনুরোধ করব আমার সব নাটক দেখতে।’

আরও একটা উত্তর দিতে চান তিনি। সেটাও অভিযোগ বটে। এবারের ঈদে প্রচারিত সোনালি ডানার চিল নাটকের শেষ দিকে আত্মহত্যা করেছেন মেহ্জাবীন। অনেকেই বলেছেন, এটা না করলেও হতো। সেটার উত্তর দেওয়ার জন্য যেন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বললেন, ‘প্রথম আলোর মাধ্যমে আমি সবাইকে জানাতে চাই, বলুন কোনো বিষয়ে শিক্ষাটা আমরা কখন পাই, যখন একটা ভুল করি, তখন। আমরা কিন্তু একটা গ্লাস ভেঙে ফেলার পরই আরেকটা গ্লাস শক্ত করে ধরি। নাটকে সে রকম ব্যাপারটা তুলে ধরা হয়েছে। একদম শেষ পরিণতি দেখানো হয়েছে। জীবনে যত কিছুই হোক, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এই রাস্তায় যাওয়া যাবে না। দেশের সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সবাইকে আসলে বোঝানো হয়েছে, দেখো কীভাবে একটা জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কীভাবে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তোমরা এই রাস্তায় এসো না। আশা করছি সবাই আমার কথা বুঝতে পারবেন। আমরা আসলে দেখাতে চেয়েছি একটা পরিবারের ভুল থেকে এটা দেশের সব পরিবার বা সবাই শিখুক।’

চলচ্চিত্রের নায়িকা?
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়ার পর থেকে মডেলিং ও নাটক নিয়ে ব্যস্ত মেহ্জাবীন। চলচ্চিত্রের মতো বড় মাধ্যম তাঁকে ডাকছে। কিন্তু তিনি কী বলেন? উত্তর দিতে একমুহূর্ত ভাবলেন না, ‘যেহেতু এই নাটক নিয়েই মেতে আছি, তাই এই মাধ্যমেই নিজের শক্ত আসন গড়তে চাই। বাকিটা পরে ভাবা যাবে?’

তাহলে কি চলচ্চিত্রকে একেবারেই ‘না’? সেটাও পরিষ্কার করে বললেন না এ অভিনেত্রী। নিজে হাত-পা গুটিয়ে ছেড়ে দিলেন সময়ের হাতে। ‘সময় যা করতে বলবে, সেটাই করব আমি।’

বাকিটা ব্যক্তিগত

ব্যক্তিগত বিষয় তো ওই একটাই? প্রেম-বিয়ে। মেহ্জাবীন এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিতে চান না। শুধু জানিয়ে রাখেন, বিয়ে নিয়ে এখনই ভাবছেন না, ‘আপাতত কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ে থাকতে চাই।’ কাজের সঙ্গে প্রেম। তাহলে ব্যক্তির সঙ্গে? না, এখনই মুখ খুলবেন না। যাঁরা নিয়মিত ফেসবুকে মেহ্জাবীনকে ফলো করেন, তাঁরা যা ভাবার ভেবে নিতে পারেন। তবে বিয়ের জন্য আরও দুই-তিন বছর লাগবে। আর পাত্র? সেটা পছন্দের মানুষই হবেন, এটাই নিশ্চিত করলেন এ অভিনেত্রী। তবে নিজের বিয়ের খবর এটুকু জানালেও আজ বৃহস্পতিবার এক বান্ধবীর গায়েহলুদে নাচবেন তিনি। কী গানের সঙ্গে নাচবেন, সেটা এখনই জানালেন না। নাচ তো পাত্রপক্ষের জন্য চমক, সেটা এখনই ফাঁস করা যাবে না।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button