ফিচার

যে কারণে শহরের পাহাড়ের উপর ৫০ ফুটের তিনটি বিশাল আয়না

ঢাকা , ৯ সেপ্টেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪)

বিশ্বজুড়ে নরওয়ে শান্তির দেশ হিসেবে পরিচিত। ইউরোপের রাজতান্ত্রিক দেশ নরওয়েতে মধ্যরাতেও সূর্যের দেখা মেলে। তাই বিশ্বজুড়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এই দেশটিকে ‘নিশিথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়।

নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় একশো’ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি ছোট্ট একটি শহর জুকন। ওই শহরে উঁচু পাহাড়ের কারণে সূর্যের আলো বলা যায় পৌঁছায়ই না সেখানে। পুরো শীতকালই বলা যায় অন্ধকারে ডুবে থাকে শহরটি। আর শীতকালে রোদ না আসা মানে এক ভয়ঙ্কয় ব্যাপার।

জুকনে শীতকালে আলোর সন্ধান পেতে মার্টিন অ্যান্ডারসন নামের এক ব্যক্তি আজ থেকে ১০ বছর আগে পুরানো এক ভাবনার কথা বলেন। আলো পেতে পাহাড়ে না চড়ে যদি আলোকেই ঘোরানো যায় শহরের দিকে। মার্টিনের সেই ভাবনা থেকেই উঁচু পাহাড়ের বাধা টপকে শীতকালেও জুকন পেল সূর্যের আলো। তবে তা পেয়েছে প্রতিফলিত হয়ে। প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ তিনটি আয়না তৈরি করা হলো। হেলিকপ্টার করে আয়নাগুলো বসানো হলো পর্বতের গায়ে। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে চালু হয় এই প্রক্রিয়া।

আয়নাগুলিতে প্রতিফলিত হয়ে জুকনে এসে পৌঁছেছে সূর্যের আলো। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে মার্টিনের এই ভাবনায় কেউ সামনে এগিয়ে আসতে চায়নি। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। চারশ’ মিটার উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় স্বপ্নের আয়না বসিয়েছেন তিনি। সূর্য যে দিকে হেলে থাকবে আয়নাগুলোও হেলে যাচ্ছে সে অনুযায়ী। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে।

মার্টিনের উদ্দেশ্য ছিল, শীতকালে যতটুকু সূর্যের আলো আসে সেটা যেন আয়নাগুলোতে প্রতিফলিত হয়ে জুকনে এস পড়ে। আর এই বিশালাকৃতির আয়না বসানোর পর এই শহরে শুরু হয় পর্যটকদের ঢল।

পাহাড়ের মধ্যে আয়না বসানোর পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে খরচ হয়েছে বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ৭ কোটি টাকারও বেশি।

সূত্র: আনন্দবাজার

আরো সংবাদ...