জাতীয়

আবারও বন্যার আশঙ্কা

ঢাকা , ১৪ সেপ্টেম্বর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

গত জুন-জুলাইয়ে এক দফা হয়ে যাওয়ার পর আবারও দেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকার পানি হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই বন্যা উত্তরাঞ্চলে এক সপ্তাহ ও পূর্বাঞ্চলে দুই-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। পদ্মায় স্রোত বেড়ে যাওয়ায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চলমান ভাঙন আরও বাড়তে পারে। আশপাশের জেলাগুলোতেও ভাঙন বাড়ার আশঙ্কা আছে। চলতি মাসজুড়ে এই ভাঙন অব্যাহত থাকতে পারে।

সম্ভাব্য এই বন্যা পরিস্থিতি মাথায় রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সতর্ক করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে থাকা ত্রাণসামগ্রী পরিস্থিতি অনুযায়ী বণ্টনের জন্য বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা এলাকার খাদ্যগুদামগুলোকেও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে বন্যার যে পূর্বাভাস রয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি একটি স্বল্পস্থায়ী বন্যা হবে। তবে তাতেও যাতে মানুষের খুব বেশি ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় থাকা ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে দেশের অভ্যন্তরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন-চার দিন এই বৃষ্টিপাত চলতে পারে। এতে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বন্যার পানি বাড়া ও কমা মিলিয়ে এই মাসের বাকি সময়জুড়ে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকার উজানে এক সপ্তাহ ধরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ওই পানি এখন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দিকে আসছে। আগামী শনিবার থেকে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল পর্যায়ক্রমে প্লাবিত হতে পারে। পূর্বাঞ্চলে দুই থেকে তিন দিন এবং উত্তরাঞ্চলের বন্যা এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ৯৪টি পয়েন্টের মধ্যে ৭৪টির পানি বেড়েছে। কমেছে ১৮টির। গতকাল পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় যমুনার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আজ-কালের মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

গতকাল রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। রাজধানীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল তিন মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে আজ শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে রাজধানীতে সম্ভাবনা মাঝারি বৃষ্টিপাতের। আগামীকাল শনিবার থেকে দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টি কমে আসতে পারে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও কিছুটা কমেছে তিস্তা নদীর পানি। এতে করে প্লাবিত হয়ে পড়ছে নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো।

আরো সংবাদ...