সাক্ষাৎকার

মফস্বলের মেয়ে হয়ে এই সাফল্য যেন স্বপ্নজয়

ঢাকা , ০১ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট এখন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর। গতকাল রোববার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঐশীর নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আগামী ৭ ডিসেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৬৮তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। সেই মঞ্চে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দরীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীর মঞ্চে ওড়াবেন বাংলাদেশের পতাকা।

আপনি এখন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’। কেমন লাগছে?
ঐশী :
 আমি বাকরুদ্ধ। এখানে যারা সেরা দশে ছিলেন সবাই যোগ্য। তাদের মধ্য থেকে সেরাদের সেরা হিসেবে নিজের নাম শুনতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন মূল প্রতিযোগিতাতেও চমক দেখাতে পারি। মফস্বলের মেয়ে হয়ে এই সাফল্য আমার কাছে অনেক বড়। একেবারে স্বপ্ন জয়ের মতো। অনেক বড় দায়িত্বও আমার কাঁধে এসেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সৌন্দর্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি-  ভাবতে ভালো লাগছে। আশা করছি, নিজের দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাস মর্যাদার সঙ্গে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারব।

এর আগে কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন?
ঐশী :
 এর আগে কখনো কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি। সত্যি বলতে, এমন কখনো ভাবিনি।  ছোটবেলায় আত্মীয়-স্বজন আমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন। হঠাৎ করেই শুনলাম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’-এর আবেদন চলছে। ভাবলাম আমিও আবেদন করি। কিন্তু এতদূর পর্যন্ত আসতে পারব এটা ভাবিনি। এতে অংশ নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আশা করছি, আগামীতে আরো ভালো কিছু করতে পারব।

এ ধরনের অনুষ্ঠানে অনেক সময় আয়োজকদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা শোনা যায়। আপনার কী মনে হয়…
ঐশী :
 এখানে কাজ করতে এসে আয়োজকদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। নেতিবাচক কিছু খুঁজে পাইনি।

রাহাত সাইফুল : যেহেতু প্রথমবার এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। সেক্ষেত্রে কোনো রকম বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কী?
ঐশী :
 আমি মফস্বলে বড় হয়েছি। এ ধরনের প্রতিযোগিতা সর্ম্পকে আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই প্রতি মুহূর্তেই শিখেছি। পড়তে হয়েছে নানারকম বাধার মুখে। এতে অনেক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হয়েছে। এগুলো জয় করেই আজ আমি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হয়েছি, এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আর এখন এই প্রাপ্তি নিয়েই সামনের পথ অতিক্রম করতে চাই।

বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন?
ঐশী :
 বিশ্বের অন্যান্য সুন্দরীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব- এ জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব, যেন নিখুঁতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারি। এখনো আমার গ্রুমিং বাকি আছে। সকলের কাছে দোয়া চাই যেন, মূল প্রতিযোগিতায় চমক দেখাতে পারি।

আপনার পড়াশোনা ও পারিবারিক বিষয়ে জানতে চাই।
ঐশী :
 বরিশালের পিরোজপুরের মাটিভাঙায় আমি বড় হয়েছি। বাবার নাম আব্দুল হাই ও মা আফরোজা হোসনে আরা। আমরা দুই বোন। বড় বোন শশী। মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে গত জুলাই মাসে ঢাকায় আসি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে। এরপরই মিস ওয়ার্ল্ডে আবেদন করি।

ময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ঐশী :
 আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরো সংবাদ...