গ্রাহক টানতে পারেনি টেলিটক, ‘বাতিলে’ এগিয়ে গ্রামীণফোন

0
17

ঢাকা , ০৯ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

দেশে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল বা মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালুর প্রায় ১০ দিন পার হলো। এমএনপি চালুর পর গ্রাহক টানতে পারেনি রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক। তবে গ্রাহক যোগদানে এগিয়ে ছিল রবি এবং সবচেয়ে আবেদন বাতিল করেছে গ্রামীণফোন।

৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এমএনপি চালুর পর থেকে দিনে গড়ে প্রায় দুই হাজার ২৪টি করে আবেদন জমা পড়েছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, এমএনপি সেবা চালুর পরের পাঁচ দিনে মোট ১০ হাজার ১২২টি আবেদন জমা পড়ে। এত আবেদন পড়লেও গ্রাহক টানতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক। উপরন্তু গ্রাহক যোগ হওয়ার চেয়ে আরও ৪১ জন গ্রাহক হারিয়েছে টেলিটক।

বিটিআরসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেলিটকে যোগ দিতে আবেদন জমা পড়ে মোট ১৩৪টি। এর মধ্যে সফল হয় ৮৯টি এবং বাতিল হয় ৪৫টি। অর্থাৎ টেলিটকে মোট ৮৯ জন গ্রাহক যোগ দিতে সক্ষম হন। এর মধ্যে গ্রামীণফোন থেকে ২৮ জন, রবি থেকে ৩৭ জন এবং বাংলালিংক থেকে ২৪ জন টেলিটকে যোগ দেন।

অপরদিকে টেলিটক থেকে ১৩০ জন গ্রাহক অন্যান্য অপারেটরে চলে যান। এ ছাড়া টেলিটক ৫৭৯টি আবেদন বাতিল করেছে।

আবেদন বাতিলে এগিয়ে গ্রামীণফোন

অপারেটর বদলে সবচেয়ে বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে গ্রামীণফোন থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণফোন মোট দুই হাজার ৭৮২টি আবেদন বাতিল করেছে। এর মধ্যে টেলিটকের ১৬টি, রবির ১৯৭৫টি এবং বাংলালিংকের ৭৯১টি আবেদন বাতিল করেছে গ্রামীণফোন।

একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদল করেছেন গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা। পাঁচ দিনে গ্রামীণফোনের মোট চার হাজার ৬১৬ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সফল হয়েছে এক হাজার ৮৩৪টি এবং বাতিল হয়েছে দুই হাজার ৭৮২টি। টেলিটক, রবি এবং বাংলালিংক থেকে গ্রামীণফোনে আসতে সক্ষম হয়েছেন যথাক্রমে ২৫ জন, ৩৩১ জন ও ৩২৬ জন।

অপরদিকে গ্রামীণফোনের পর আবেদন বাতিলে এগিয়ে ছিল যথাক্রমে বাংলালিংক, রবি এবং টেলিটক। এর মধ্যে বাংলালিংক এক হাজার ৫১৯টি আবেদন বাতিল করেছে, রবি ৯৮২টি এবং টেলিটক ৫৭৯টি।

বিটিআরসির এই পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোন একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। এতে তারা বলে, ‘এমএনপির মাধ্যমে টেলিকমিউনিক্যাশন্স সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং একই সাথে আমাদের নেটওয়ার্কে গ্রাহকদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। একটি কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রামীণফোন বিটিআরসি নির্ধারিত এমএনপির গাইডলাইন মেনে চলে সেবা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর তাই এমএনপির গাইডলাইনের শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন।’

সবচেয়ে বেশি গ্রাহক যোগ দিয়েছে রবিতে

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, এমএনপি চালুর দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনে অপারেটর বদলের জন্য আবেদন জমা পড়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৮১৬টি, দুই হাজার ১৬৯টি, এক হাজার ৯৭৭টি, দুই হাজার ৫৮০টি এবং এক হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে চার হাজার ১৮১টি আবেদন। অপারেটর বদলে বাধাগ্রস্ত বা বাতিল হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬২টি আবেদন। পর্যবেক্ষণে রয়েছে ৭৯টি আবেদন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেলিটকে যাওয়ার জন্য মোট আবেদন জমা পড়ে ১৩৪টি, গ্রামীণফোনে এক হাজার ৫১৫টি, রবিতে পাঁচ হাজার ৮৯১টি এবং বাংলালিংকে দুই হাজার ৫২৩টি। অর্থাৎ রবিতে যাওয়ার জন্য বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে রবিতে যেতে সক্ষম হয়েছেন ৬৮২ জন গ্রাহক। তিন হাজার ৫৫০ জন নানা কারণে যেতে সক্ষম হননি।

রবিতে গ্রাহক যোগদানের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘গত ১ অক্টোবর থেকে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর রবির শক্তিশালী ৪.৫ জি নেটওয়ার্কে আসতে ইচ্ছুক গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি এবং এর জন্য আমরা আমাদের গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানাই।’

‘যদিও এমএনপি সেবায় এখনো সেভাবে গ্রাহক সাড়া পাওয়া যায়নি। সেবাটি নিতে গ্রাহকদের আগ্রহী করে তুলতে প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে ৫০ শতাংশ আগ্রহী গ্রাহক নানা কারণে এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেননি। যেসব কারণে গ্রাহকরা এমএনপি সেবা নিতে পারছেন না, সেগুলো দূর করতে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’

পাঁচ দিনে কে কত হারাল

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের চার অপারেটরের মধ্যে গ্রাহকদের বেশ রদবদল হয়েছে। এর মধ্যে টেলিটক হারিয়েছে ৪১ জন। অপারেটরটিতে যোগ দেন ৮৯ জন এবং ছেড়ে গেছেন ১৩০ জন।

গ্রামীণফোন হারিয়েছে এক হাজার ১৫২ জন। এর মধ্যে অপারেটরটিতে যোগ দিয়েছেন ৬৮২ জন এবং ছেড়ে গেছেন এক হাজার ৮৩৪ জন।

৯৭২ জন গেলেও রবিতে যুক্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৬৯ জন গ্রাহক আর যোগ দিয়েছেন দুই হাজার ৩৪১ জন।

বাংলালিংক হারিয়েছে ১৮৭ জন গ্রাহক। যোগ দিয়েছেন এক হাজার ৮৯ জন গ্রাহক এবং ত্যাগ করেছেন এক হাজার ২৭৬ জন।