রাজনীতি

তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় আক্ষেপ আওয়ামী লীগে

ঢাকা , ১০ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফাঁসির সাজা ঘোষণা না হওয়ায় আপেক্ষ রয়েছে আওয়ামী লীগে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-কর্মীরা বলেছেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে এ মামলার রায় ঘোষণায় তারা খুশি। তবে রায়ে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। রায়ে তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তারা। তারেক রহমানকে ভয়াবহ এ হামলার প্ল্যানার বা মাস্টারমাইন্ড আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, আপিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলা হোক।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ১-এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন। এ মামলায় জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। আর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় ৩১ আসামি আদালতে হাজির ছিল।
এ রায়কে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে থেকেই রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম-সমমনা সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসানাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুককাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পাশেই আলাদা সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে এতে যোগ দেন যুবলীগ সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ।
সমাবেশে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তারা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে গ্রেনেড হামলা চালায়। তারেক রহমান এর মূলহোতা-মাস্টারমাইন্ড। তাকে ফাঁসি দিলে খুশি হতাম। আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের দাবি বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’
এদিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এই রায়ের ফলে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটনোর সাহস পাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে। তবে মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়ায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি খুশি হতে পারিনি। সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, আপিল করে মূলহোতা তারেক রহমানের ফাঁসি নিশ্চিত করা হোক।’
রাজধানীর এরশাদ মার্কেটের সামনে ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলুর নেতৃত্বে অবস্থান নেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও ডেমরার স্টাফ কোয়াটারের সামনে সর্তক অবস্থায় ছিলেন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলসহ মাতুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল খান এবং আরও অনেক।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রায়ের পর তাৎক্ষণিক মিছিল করেন মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপুর নেতৃত্বে মিছিলে সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীরপ্রতীক, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ পারভেজ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে রায় ঘোষণার পরে আনন্দমিছিল করা হয়। এসব মিছিলে ‘যাবাজ্জীবন বিধান নাই, তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই’, ‘এইমাত্র খবর এলো, বাবরের ফাঁসি হলো’, ‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

আরো সংবাদ...