ফ্যাশন

ব্যতিক্রমী গহনার ‘ব্যাড হ্যাবিট’

ঢাকা , নভেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

ব্যাড হ্যাবিট, না কোনো খারাপ অভ্যাসের কথা বলছি না। বলছি গহনা বিক্রয়কারী অনলাইনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কথা। প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকে ‘ব্যাড হ্যাবিট’ নামক পেজের মাধ্যমে গহনা বিক্রয় করে থাকে। নামটা শুনেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত নাম থাকতে ‘ব্যাড হ্যাবিট’ নাম কেন?

নামের গল্প বলছিলেন ব্যাড হ্যাবিটের প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন শ্যামল, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই হাতে ব্রেসলেট, কানে দুল, গলায় বিভিন্ন রকম চেইন পরতাম। ছেলে বলে তখন সবাই বলতো এটা নাকি আমার বদ অভ্যাস। আমি সৌখিন মানুষ, এগুলো আমার শখ! কিন্তু সব সময় সব শখ সবাই মেনে নেয় না, ভালোভাবে দেখেও না। যখন ব্যবসায় নামব ভাবলাম তখন কেন যেন এই বিষয়টাই বার বার নাড়া দিল! ইচ্ছে করেই নাম দিলাম ব্যাড হ্যাবিট। আর তাই নারীদের গহনার পাশাপাশি পুরুষদের গহনা নিয়েও কাজ করি আমরা।’

ব্যাড হ্যাবিটে রয়েছে ব্যতিক্রমী সব গহনার সম্ভার। প্রকৃত রিকশা পেইন্টারদের দিয়ে প্রথম গহনায় কাজ করায় ব্যাড হ্যাবিট। রিকশার টিনের পাতেই হয়েছিল সেই গহনাগুলো। এছাড়া তামা, পিতল, ব্রোঞ্জের গয়নার কাজও পাবেন তাদের এখানে। ঐতিহ্যবাহী পাটের গহনা, মাটির গহনা নতুন করে আবার সবার সামনে নিয়ে এসেছে এফ-কমার্স বা ফেসবুকভিত্তিক এই পেজটি। গহনা বলতেই বাজার যখন ভারতীয় গহনায় সয়লাব তখন দেশি গহনা তৈরির এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাড হ্যাবিট পেজটিতে বর্তমানে ৫ জন প্রতিদিন কাজ করছেন। ব্যাড হ্যাবিটের কথা বলতে গেলে আরেকটা অনলাইন মার্কেটের কথা না বললে ব্যাড হ্যাবিটের অপূর্ণতা থেকেই যাবে। ব্যাড হ্যাবিটের সূচনা ‘গুটিপোকা’ থেকে। ফেসবুকভিত্তিক পেজ ‘গুটিপোকা’ মূলত পরিধেয় চিত্রশিল্প তৈরি করে, সহজ কথায় হ্যান্ড পেইন্টের পোশাক তাদের মূল পণ্য। আর ব্যাড হ্যাবিটের পণ্য হচ্ছে, গহনা।

মহিউদ্দিন শ্যামল জানান, ‘গুটিপোকা পোশাকের পাশাপাশি গহনাও করত। পরে আমরা গহনাকে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড় করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

বর্তমানে হাতে নকশা করা টিপ ব্যাড হ্যাবিটের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাড়ি বলি আর সালোয়ার কামিজ বলি, টিপ সবকিছুতেই একটা বাড়তি সৌন্দর্য এনে দেয়। আর সেই টিপ যদি হয় ড্রেসের মতোই নকশার তাহলে নিজের কাছেই একটা বাড়তি আনন্দ চলে আসে। শুধু টিপ নয়, হাতের ব্রেসলেটে যদি থাকে শিউলি ফুলের নকশা তাহলে মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। আবার সহজে মেলে না এমন গহনা পাওয়া যাবে ব্যাড হ্যাবিটে। যেমন, পিতলের কারুকাজ করা কাজলদানি, বাজু, কোমরবন্ধ। ব্যাড হ্যাবিটে আরো আছে গোল্ড প্লেটেড গহনা। বিভিন্ন রকম গহনা নিয়েই ব্যাড হ্যাবিটের কাজ।

ক্রেতার সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিন্নধর্মী গহনা যারা পছন্দ করেন তারাই আমাদের ক্রেতা। আর এমন রুচিশীল মানুষের সংখ্যা কিন্তু অনেক।’

ব্যাড হ্যাবিটের স্বত্বাধিকারী এবং গুটিপোকার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা আফসানা সুমী জানান, ‘গুটিপোকা আর ব্যাড হ্যাবিট দুই প্রতিষ্ঠানেই বাবা-মায়ের জন্য কিছু কিনলেই সারাবছর ১০ শতাংশ মূল্যছাড় দিই আমরা।’

এফ-কমার্স বা ফেসবুক পেজভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আফসানা সুমী বলেন, ‘যে যেই দিকটায় পারদর্শী সে সেই দিকটা নিয়ে কাজ করলে ভালো হয়। আর অনলাইন ব্যবসাতে প্রচুর মেধা ব্যয় করতে হবে। পরিশ্রম করা, ধৈর্য রাখা আর সততা এই গুণগুলো যাদের মধ্যে আছে তারা করতে পারে অনলাইন ব্যবসা।’

ব্যাড হ্যাবিটের ফেসবুকের পেজের ঠিকানা : www.facebook.com/BadHabit.Mohi

আরো সংবাদ...