মুক্তমত

শিক্ষাবঞ্চিত প্রতিবন্ধীরা

ঢাকা , নভেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

ফি বছর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস আসে। ফি বছরই সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ‘প্রতিবন্ধীরা আলোকিত হোক’ বলে ঢাকঢোল পেটায়। সরকারি কর্তারা আবেগঘন বক্তৃতা দেন। ফলমূল, জামাকাপড় বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে আশ্বাসের বান ডাকে। বাস্তবতা হলো, এসব আশার বাণী লাল ফিতার বাঁধন থেকে মুক্তি পেয়ে বাস্তবে রূপ পায়নি। যে শক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীরা সব বাধার গিরি লঙ্ঘন করতে পারে, সেই শক্তি অর্থাৎ শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার প্রতিবন্ধীদের যে অবস্থার কথা উঠে এসেছে, তা আতঙ্কজনক। বাজিতপুরের একমাত্র বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা’ আয়োজিত সুশীল সমাবেশে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলায় রয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জন। এদের মধ্যে শিশু ১ হাজার ২০০ এবং তাদের ১ হাজারই বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। একটি উপজেলার চিত্র যদি এই হয়, তাহলে দেশের সামগ্রিক চিত্র কী, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সরকারি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে এখনো পর্যন্ত শনাক্ত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৩ জন। আর শনাক্ত হয়নি এমন প্রতিবন্ধীর সংখ্যা অজানাই থেকে গেছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা যা দাঁড়াচ্ছে, তা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ।

শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে যদি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে গোটা জাতিই পিছিয়ে পড়বে। বিশেষ করে, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার বিষয়ে সরকারকে দ্রুত বড় কোনো উদ্যোগ নিতেই হবে। প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি মানসম্মত বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন করলে তাদের শিক্ষার পথ কিছুটা সম্প্রসারিত হবে।

একজন প্রতিবন্ধীকে শিক্ষার আলো পেতে গেলে আজও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। সরকার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে, যথাযথ প্রচারের অভাবে তাদের কাছে তা খুবই কম পৌঁছায়। অর্থের অভাবে মাঝপথে অনেককে পড়াশোনা বন্ধ করে নিরুপায় হয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়। দরিদ্র পরিবারের বহুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী শুধু সরকারি ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক জানেনও না এ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি সরকার আদৌ দেয় কি না। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। এই পরিবর্তন সরকারকেই আনতে হবে।

সরকার ও এর নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, অধিকাংশ প্রতিবন্ধী থাকে গ্রামে। তাই প্রতিবন্ধী কল্যাণ শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিলে এই অবহেলিত ও অসহায় মানুষের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার কথা নয়।

আরো সংবাদ...