টেস্টে কেন হাবুডুবু?

0
39

ঢাকা , নভেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

সব সকালই যে দিনের ঠিকঠাক পূর্বাভাস দেবে, এমন তো কথা নেই। এ বছর টেস্টের বাংলাদেশকে দেখলে প্রভাতে সুদিনের আভাস-সংক্রান্ত প্রবাদের প্রতি আস্থা উঠে যেতে বাধ্য।
বছরের শুরুতে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টটা তো দারুণ একটি টেস্ট-বছরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ম্যাচটি ড্র হয়েছিল, তাতে কী? দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুঃস্বপ্নকে সরিয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮২০ রান করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ সুদিনের সোনালি স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কেই-বা ভাবতে পেরেছিল, পরের সময়টা যে এমন ভয়ংকর রূপ নেবে! চট্টগ্রামে সেই টেস্টের পর পরের চারটি টেস্টেই হারতে হবে অন্তত দেড় শ রানের ব্যবধানে।

এই ৪ টেস্টের ৮ ইনিংসে একবারও ২০০ পেরোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার বিব্রতকর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আর সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টটি তো ডুবিয়ে দিয়েছে হতাশার সাগরে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, ওয়ানডে ক্রিকেটে রীতিমতো সমীহজাগানো দল হয়ে ওঠা বাংলাদেশ টেস্টে কেন এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে?

এ দেশের ক্রিকেটের যুগবদলের সাক্ষী, কোচ জালাল আহমেদ চৌধুরী সিলেট টেস্টের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘ব্যাটসম্যানরা প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয় ইনিংসে সেটার প্রয়োগটা করতে পারেনি। টেস্টে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিংয়ের যে মানসিকতা, সেটা আরিফুল ছাড়া আর কারও মধ্যে দেখলাম না।’

সেই প্রয়োগটা তো লম্বা সময় ধরেই হচ্ছে না টেস্ট দলে। দল নির্বাচনও অনেক দিনই প্রশ্নবিদ্ধ। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামকে টেস্ট ক্যাপ দিয়ে দেওয়া হলো, অথচ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বহুদিন পর সুযোগ পাওয়া আবদুর রাজ্জাককে ভুলে যাওয়া হলো বেমালুম। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে উইকেটের পর উইকেট নিতে থাকা রাজ্জাক জাতীয় দলে ফিরেও খুব খারাপ করেননি। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানে ৪ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নিয়েছিলেন ১ উইকেট। রাজ্জাক তবু একটি সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু গত এক বছরে ৭৮-এর ওপর গড়ে ১২৫১ রান করেও তুষার ইমরান নির্বাচকদের মন কাড়তে পারেননি। যা নিয়ে জালাল আহমেদ চৌধুরী বলছেন, ‘দল নির্বাচনে একটা বিশৃঙ্খলা আছে, সেটা তো নিশ্চিত। গভীর চিন্তার অভাব আছে বলে মনে হয়। অভিজ্ঞতা ছাড়া টেস্ট দল তো হতেই পারে না। নির্বাচকেরাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে বলে আমার মনে হয় না।’

রাজ্জাককে একটা সুযোগ দিয়েই আবার ছুড়ে ফেলার ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য কারণ দেখালেন ফিটনেসকে, বলা ভালো ফিটনেসের অভাবকে। কিন্তু সাকিব-তামিম না থাকার পরও তুষার ইমরানকে না ডাকার কী যুক্তি? মিনহাজুল চলে গেলেন দল নির্বাচনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, ‘একটা দল নির্বাচন করতে গেলে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়। টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া থাকে, ফিটনেসের ব্যাপার থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওই ক্রিকেটারের সম্ভাবনা কেমন, সেটা দেখার ব্যাপার আছে। দলে যাদের নেওয়া হয়েছে, কেউই অনভিজ্ঞ নয়। প্রত্যেকেই জাতীয় লিগে দারুণ খেলে দলে এসেছে। নাজমুল রান করেছে, মুমিনুল সেঞ্চুরি করেছে, আরিফুল ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। যারা খেলেছে, তাদের সবাই নিজেদের অন্যদের চেয়ে বেশি যোগ্য প্রমাণ করেই এসেছে।’

দল নির্বাচন নিয়ে মিনহাজুল আবেদীন ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খানের ভাবনা যে মিলে যাবে, সেটিই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ক্রিকেটে অদ্ভুতুড়ে নির্বাচক কমিটির অংশ তো আকরাম খানও। এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আকরাম অবশ্য সিলেটের ব্যাটিং পারফরম্যান্স মেনেই নিতে পারছেন না, ‘ব্যাটিংয়ে কোনো জুটিই হয়নি সিলেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পেসবান্ধব উইকেটে হয়নি, সেটা না হয় মানা যায়, কিন্তু দেশের মাটিতে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় তো মেনে নেওয়া যায় না। টেস্ট ক্রিকেটে যত বেশি সম্ভব বল খেলা দরকার। জুটি হওয়া দরকার। সেগুলো আমাদের হচ্ছে না, আমাদের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে নিজেদের সামর্থ্যকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। আমরা এগুলো নিয়ে কোচ-অধিনায়কের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here