খেলাধুলা

রোনালদোর অবিশ্বাস্য গোল, মরিনহোর টিটকারি

ঢাকা , নভেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

শেষ বাঁশি বাজতেই খেলটা দেখালেন হোসে মরিনহো। ডান হাতটা কানের পাশে রেখে কিছু একটা শোনার ভান করলেন। বোধ হয় তুরিনের দর্শকদের দুয়ো। ভাবখানা এমন যে দাও এবার দুয়ো দাও। ম্যাচটা তো হারলে! লিওনার্দো বোনুচ্চির তা সহ্য হয়নি। তেড়ে এসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচকে জুভেন্টাস ডিফেন্ডার যেন জিজ্ঞেস করতে চাইলেন, সামান্য গ্রুপ পর্বের একটা ম্যাচ জিতেই এত! চ্যাম্পিয়নস লিগে কাল জুভেন্টাসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিস্ময় গোল আর ম্যাচ শেষে মরিনহোর টিটকারি!

মৌসুমে অপরাজিত থেকে নিজেদের মাঠে নেমেছিল জুভেন্টাস। ম্যাচের প্রায় পুরো সময়ই দাপিয়ে খেলেছে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দল। ৩৫ মিনিটে ভাগ্য পাশে না থাকায় গোলবঞ্চিত হয় তারা। ডান প্রান্ত থেকে রোনালদোর পাস ইউনাইটেডের বক্সে পেয়েছিলেন সামি খেদিরা। জার্মান মিডফিল্ডারের শট রুখে দেয় ইউনাইটেডের গোলপোস্ট! বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মাথায় পাওলো দিবালার শটও ইউনাইটেডের ক্রসবারে লাগলে গোলবঞ্চিত হয় জুভেন্টাস। কিন্তু ৬৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো।

মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসানো দূরপাল্লার পাস দিয়েছিলেন বোনুচ্চি। ডান প্রান্তে দৌড়াতে থাকা রোনালদোর সামনে বলটা ফেলাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। বোনুচ্চির নিখুঁত পাসটি গিয়ে পড়েছেও রোনালদো একেবারে সামনে। না, ভুল হলো। রোনালদো বলটা পড়তে দেননি। বলটা শূন্যে থাকতেই দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এই গোলের আনন্দ পেটের ‘সিক্স প্যাক’ পেশি দেখিয়ে উদ্‌যাপন করেছেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের হয়ে রোনালদো গোলের খাতাও খুললেন এই অবিশ্বাস্য শটে। এই টুর্নামেন্টে ২০টি শট আর ৪৫৩ মিনিট পর প্রথম গোলের দেখা পেলেন তিনি।

এরপর আরও দুটি গোলের সুযোগ পেয়েছে স্বাগতিকেরা। হুয়ান কুয়াদ্রাদো ৭৪ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ইউনাইটেড আসলে এই ম্যাচে জয় পেয়েছে হুয়ান মাতার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ভাগ্যের জোরে। বদলি হয়ে মাঠে নামা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মাতা ৮৬ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরান ইউনাইটেডকে। এর তিন মিনিট পর সেটপিস থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন জুভেন্টাস লেফটব্যাক অ্যালেক্স স্যান্দ্রো। ভাগ্যের জোরে পাওয়া এই গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইউনাইটেডের।

জুভেন্টাসের মাঠে মরিনহোর তিক্ত স্মৃতি কম নেই। ইন্টার মিলানের কোচ থাকতে প্রায় নিয়মিতই ‘ওল্ড লেডি’ সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে পর্তুগিজ এই কোচকে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম ইংলিশ দল হিসেবে জুভেন্টাসের মাঠে জয়ের স্বাদটা তাই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের প্রতি টিটকারি মেরেই উদ্‌যাপন করেছেন ইউনাইটেডের এই কোচ। মরিনহোর এই আচরণ কিন্তু ভালোই বিতর্ক ছড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে পরে মরিনহো বলেছেন, তিনি নাকি ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট ধরেই অপমানিত হয়েছেন! মানে, ম্যাচের গোটা সময়ই জুভেন্টাস–সমর্থকেরা তাঁকে দুয়ো দিয়েছে। তার জবাবে জয়ের পর হাতটা কানের পাশে রেখে জুভেন্টাস–সমর্থকদের কথা শোনার ভান করেছেন মাত্র।

এ প্রসঙ্গে ইউনাইটেড কোচ স্কাই ইতালিয়াকে বলেন, ‘৯০ মিনিট ধরেই অপমানিত হয়েছি। এখানে নিজের কাজটা করতে এসেছিলাম। আর কিছু না। কাউকে তো আঘাত দিইনি। শুধু ওদের আওয়াজ শোনার চেষ্টা করেছি। হয়তো এটা করা উচিত হয়নি। মাথা ঠান্ডা রাখা উচিত ছিল। কিন্তু আমার পরিবার অপমানিত হয়েছে, ইন্টার-পরিবারও। তাই এমন আচরণ করেছি।’

মৌসুমে এই প্রথম হারের মুখ দেখল জুভেন্টাস। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে দলটি। তাদের থেকে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় ইউনাইটেড। এই গ্রুপের আরেক দল ইয়াং বয়েজের বিপক্ষে পরের ম্যাচে জিতলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করবে মরিনহোর দল। সে ক্ষেত্রে শর্ত হলো, জুভেন্টাসের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে হারতে হবে।

আরো সংবাদ...