বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক যেন কাটছেই না

0
31

ঢাকা , ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। ফলে সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।

তবে নির্বাচন নিয়ে এখনও এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে তা নিশ্চিত নয়। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নিতে পারবেন- এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। ২০১৪ সালের মতো আবারও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটবে না- এ নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারবে না।

তারা আরও জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে এখনও নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগও বিএনপিকে সমালোচনা করতে ছাড়ছে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মনোনয়নপত্র জামা দিলেও বাছাইয়ে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর বড় অংশই সরকারবিরোধী মতাদর্শের।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। কোন দল সরকার গঠন করবে, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। ফলে বিনিয়োগ কিছুটা হলেও মন্থর হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেয়াই স্বাভাবিক।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে পুঁজিবাজারে এক ধরনের অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স প্রায় এক বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। কমেছে লেনদেনের গতি। বাজার মূলধনেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩ ডিসেম্বর লেনদেন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ৩০৪ পয়েন্ট।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৭০০ কোটি টাকার ওপরে। তবে অক্টোবর মাসে বাজারটিতে অধিকাংশ দিন ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়। নভেম্বর মাসের শেষদিকে এসে লেনদেনের কিছুটা গতি বাড়লেও চলতি মাসের প্রথম দুই কার্যদিবসে লেনদেন ৫০০ কোটির ঘরে রয়েছে।

বাজার অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মূলধনেও। আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৯৬ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। ৩ ডিসেম্বর লেনদেন শেষ তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারী আলমগীর বলেন, দুই মাস আগেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় সেই অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যায়। এরপর বিএনপিপ্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দেয়ার মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রণহমূলক হবে- এমনটি স্পষ্ট হয়। কিন্তু এখন যেভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল হচ্ছে তাতে নির্বাচন নিয়ে নতুন শঙ্ক দেখা দিচ্ছে। আবারও ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তিনি বলেন, আমরা ছোট বিনিয়োগকারী, পুঁজিও কম। হাউজে গিয়ে শুনি বড় বড় বিনিয়োগকারী এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। তারা বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। হাউজের পরিচিতরাও এখন নতুন বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনের পর নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি।

ইব্রাহীম হোসেন নামে অপর এক বিনিয়োগকারী বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রীক সব আতঙ্ক এখনও কাটেনি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে নাকি, বড় গণ্ডগোল হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমাদের যে সংস্কৃতি তাতে কেউ ক্ষমতা ছাড়তে চাই না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বিএনপিও ছাড় দেবে না। তারাও এবার যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে আতঙ্কমুক্ত থাকা যায়?

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান এ প্রসঙ্গে বলন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে। তবে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা কাটেনি। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কা-শঙ্কা-দুশ্চিন্তা তত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকবে- এটা স্বাভাবিক। কারণ পুঁজিবাজার খুবই স্পর্শকাতর। যেকোনো বিষয়ের প্রভাব এখানে দেখা যায়।’

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এবারের নির্বাচন বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার নির্বাচন। সুতরাং এ নির্বাচনে কোনো সংঘাত হবে না- এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। আবার নির্বাচনের মাধ্যমে কোন দল সরকার গঠন করবে, তাও নিশ্চিত নয়। আমাদের বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোনো না কোনো দলের মতাদর্শের। সুতরাং তারাও বিনিয়োগ নিয়ে এখন সতর্কাবস্থায় আছেন।