এ বছর অভিবাসন কমবে ২৭ শতাংশ : রামরু

0
47

ঢাকা , ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ছয় লাখ ১৪ হাজার ৫৮৫ জন বাংলাদেশি কর্মী উপসাগরীয় ও অন্যান্য আরব দেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করেছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছর অভিবাসনের হার গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই হিসাব জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন কর্মী বাংলাদেশ থেকে কাজের উদ্দেশে বিদেশে অভিবাসন করেছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অভিবাসনকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে এ বছরে দুই লাখ ৭১ হাজার ২৩ জন কর্মীর অভিবাসন কমে যাওয়ায় এই বাজারে দুর্বলতাই প্রকাশ করে।

ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের তথ্য সংরক্ষণে কোনো প্রক্রিয়া নেই। ফলে বর্তমানে মোট কতজন কর্মী বিদেশে অবস্থান করছেন তা জানার কোনো উপায় নেই। রামরু এবং এসডিসি ২০১৮ সালে প্রকাশিত ২০টি জেলার প্যানেল ডাটা অনুযায়ী মোট অভিবাসীর ২১ ভাগ হচ্ছে ফিরে আসা অভিবাসী এবং ৭৯ ভাগ হচ্ছে বর্তমান অভিবাসী।

নারী অভিবাসীদের বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ২০১৮ সালে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নারীকর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছরে তাদের বিদেশ যাওয়ার হার আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ কমে আসবে।

রামরুর প্রতিবেদনে স্থান পাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্যাতনের প্রেক্ষিতে নারীকর্মীদের সৌদি আরব থেকে অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন, প্রবাসীদের জন্য ১২ ধরনের চাকরি বন্ধ ঘোষণা সৌদি আরবের, মালয়েশিয়ার সরকার পরিবর্তন সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুরুষ অভিবাসন বন্ধ, বাংলাদেশ আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ড আইন পাস উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রামরুর পক্ষ থেকে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং রামরুর নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহদীন মালিক, রামরুর প্রোগ্রাম পরিচালক মেরিনা সুলতানা প্রমুখ।