সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জে আতংকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া

ঢাকা , ২৭ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

নির্বাচনে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই সময়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হয়ে উঠেছে। গত সোমবার রাত থেকে তারা চিরুণী অভিযানে নেমেছে। এতে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা কেউ তাদের বাসায় থাকতে পারছে না। অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই সোমবার রাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসায় হানা দেয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, তার ছোট ভাই কাউন্সিলর খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলসহ অনেক নেতাকর্মীর বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজা হয়। তবে তারা বাসায় না থাকায় আটক হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানান দলটির নেতারা।

তবে এই চিরুনী অভিযানে ঐক্যফ্রন্টের জেলার সমন্বয়ক ও গণফোরামের নেতা চুন্নুকে আটক করে পুলিশ। পরে একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে শহরের পাইকপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও চুরির অভিযোগে গত সোমবার রাত ১১টায় স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক রিয়াদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে ৭৪ জনের নামে ও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলায় দেলোয়ার হোসেন চুন্নুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই মামলায় অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও আব্দুর সবুর সেন্টু, হাজী নুরুদ্দিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপিরসহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল আলম সজল, শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম এইচ মামুন, শাহজালাল, রনি, গোলাম কাদির, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির, হাসান আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম ছক্কু, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম আজাদ, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সরকার আলম, বকুল, শাহ নেওয়াজ, মামুন, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুর রহমান রশু, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, শাহেন শাহ, বন্দরের বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ পনেছ, মোঃ মনির হোসেন, হাফেজ আবু সাঈদ, আওলাদ, মোঃ নাঈম, মোঃ নুর ইসলাম, মোঃ আফজাল, রাব্বী, পলাশ, রাসেল, সনেট, লিং রাজা খান, জিয়াউর রহমান জিয়া, রিয়াদ, রাসেল, সাগর, সেন্টু, শাহজাহান, নুর হোসেন, শুক্কুর, অশিন, মিল্টন, আলিনূর সুমন, খুরশিদ আলম সাগর, আনোয়ার হোসেন, মোতালিব কন্টাক্টর, হিমেল খান, মিয়া বাবু, বাহু ওরফে মাসুম, সানোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন, শাখাওয়াত, সালাউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, রেজাউল করিম রাজা, ডমানুর কবির এলিন, সুলতান খান, আলমগীর, রাব্বী, রাহাত, গোলাপ রাসেল, জুলহাস, সৈয়দ হোসেন, মোঃ শাহীন সরকার, আনোয়ার হোসেন, ছালাম, আব্দুল ছালাম পাঠান, সেলিম পাঠান, আব্দুর রহমান, সৈয়দ হোসেন ও মোঃ জাকির।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিএনপির সহ সভাপতি ব্যারিস্টার পারভেজের বিরুদ্ধে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনবিরোধী কথাবার্তা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করার অভিযোগে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব হতে সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হয়ে প্রেসক্লাবের নিচে নামা মাত্রই জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ব্যারিস্টার পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর বাইরে গত কয়েকদিনের উত্তেজনা বৃহস্পতিবার থেকে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সরকার দলীয় দুইটি নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোতে মামলা দেওয়া হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে। সোনারগাঁয়ে হামলা হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় বিএনপি এখন তাদের নিজেদের রক্ষা করতে গা-ঢাকা দিয়েছে। তারা নিজ বাসা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। ছেলে-মেয়ে পরিবার রেখে তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তাদের কেউ কেউ জেলা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের পরিবার তাদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ না হলে নির্বাচনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠবে।

নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, ‘নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। গভীর রাত পর্যন্ত আমার বাসাসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ওই বিশেষ অভিযান চলিায়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল তাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button