জাতীয়

ভোটের টানে বাড়ির পানে

ঢাকা , ২৮ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

কর্মের তাগিদে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এসব কর্মমুখী মানুয়ের অধিকাংশই নিজ নিজ এলাকায় ভোটার।

আর মাত্র একদিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর এসব অস্থায়ী বাসিন্দারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে গত দুই-তিন আগ থেকে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় দেখা গেছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, অন্য স্বাভাবিক দিনের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি বেশি। চলতি টিকিট কাউন্টারে মানুষের দীর্ঘলাইন। পাশাপাশি অগ্রিম টিকিট দেওয়ার স্থলেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করছেন কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের জন্য। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানো মাত্রই শুরু হচ্ছে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি।

কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত আজাদ হোসেন বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ ট্রেনযোগে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আজ ও আগামীকালের অগ্রিম টিকিটের জন্য মানুষ বেশি ভিড় করছেন।’

রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট কিনতে কাউন্টারের সামনে অগ্রিম টিকিট পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তুহিন নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী নিজ এলাকায় যাব ভোট দিতে। আসন্ন জাতীয় একাদশ নির্বাচনে আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্যই এত দূর থেকে এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি। একজন নাগরিক হিসেবে ভোট প্রদান করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’

অপরদিকে, রাজধানীর সদরঘাটেও অন্য স্বাভাবিক দিনের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ইতোমধ্যে ২৮ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব লঞ্চেরই কেবিন বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুক্রবার লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেটের জন্য লঞ্চগুলোর বুকিং অফিসে অনেক যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

বরিশালগামী যাত্রী বশির হোসেন বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। আজ অনেকেই যাচ্ছেন। আজ ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়বে।’

তিন দিন আগে বরিশাল যাওয়ার জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে রেল, লঞ্চ ও বাস চলাচলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ সড়ক, নৌ কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে। বিগত বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার কারণে রেলওয়ের ওপর নাশকতা হয়েছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে এবার জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

অপরদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। সুগন্ধা, রয়েল, অভিযান, পদ্মা, স্টার লাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাসেও আসন খালি নেই।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাসাবোর বাসিন্দা আলিফ বিন হাসিব বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। রাস্তায় যানজট হলে বাড়ি যেতে অনেক সময় লাগবে।’

কথা হয় রয়েল পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট মাস্টার এম সলিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে সবাই বাড়ি যাচ্ছে। এ কারণে কুমিল্লায় যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি ঢাকায় আসছে। রাস্তায় যানজটের কারণে আসতে সময় লাগছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জোনাল-ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করছেন। যেকোনো বিষয় যেন তারা তাৎক্ষণিক জানিয়ে দিতে পারেন, সে জন্যই কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোলিং ডিউটি থাকছে। পাশাপাশি রাতের প্রতিটি ট্রেনে নিরাপত্তায় ট্রেন ইন্সপেক্টর দায়িত্বে থাকবেন।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button