রাজনীতি

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাবিতে সরব ছাত্রলীগ, ক্যাম্পাসে নেই ছাত্রদল

ঢাকা , ২৮ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র একদিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সরব রয়েছে ছাত্রলীগ। অস্তিত্ব নেই ছাত্রদলের। তবে নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ঢুকতে পারে এমন আশঙ্কায় রয়েছে ছাত্রলীগ। তাই যেকোনো মূল্যে ছাত্রদলের প্রবেশ ঠেকাতে সোচ্চার ছাত্রলীগ। দিন-রাত স্লোগান আর বিভিন্ন কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসে সরব তারা। বাড়ি যেতে নিষেধ করা হয়েছে নেতাকর্মীদের। ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মধুর ক্যান্টিন আর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীদের সকাল-সন্ধ্যা দেখা যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ‘প্রগতির মঞ্চে বিজয়ের স্বরলিপি’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করেছে ছাত্রলীগ। যদিও এটি টিএসসিভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের’ ব্যানারে করা হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। একাধিকবার ঢোকার চেষ্টা করলেও ছাত্রলীগের প্রতিরোধে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ‘স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। গত ১২ ডিসেম্বর ‘জামায়াতকে বয়কট করো’ ব্যানারে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলকে অবাঞ্চিত করার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিনের কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্যাম্পাসে যেখানে দেখা যাবে সেখানে প্রতিরোধ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তার করছে এমন অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যদিও তা অস্বীকার করে আসছে তারা। তবে ছাত্রদল ছাড়া অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে থাকলেও ছাত্রলীগের মতো এতো দাপট নিয়ে চলতে পারে না। কোনও কোনও সময় ছাত্রলীগের হামলারও শিকার হতে হয়েছে। তাদের এমন অনেক অভিযোগের আঙুল ছাত্রলীগের দিকে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সব সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের দাবি, কোনও কর্মসূচি করতে গেলে অনেক সময় ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। গত মঙ্গলবার ছাত্র ফেডারেশনের সাতজন নেতাকর্মীকে আহত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এর আগে (২৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ ব্যানারে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলে তাতে হামলার অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারার কারণ
ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারার মূল বাধা মনে করছে ছাত্রলীগকে। ছাত্রদল যখনই ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছে তখনই ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোনও কর্মীর অবস্থান জানতে পারলে সেখানে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রত্ব নেই এমন কারও ক্যাম্পাসে অবস্থানের বিষয়ে নিষেধ রয়েছে। ছাত্রদলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতাদের বয়স বেশি হওয়ার কারণে তাদের বিষয়ে প্রশাসনেরও রয়েছে অনীহা।

সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সব সংগঠনের সহাবস্থান নেই এ কথা ঠিক নয়। কিছু দিন আগে সব ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে আমরা ডাকসুর বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ উল্লেখ্য, ডাকসুর আলোচনা সভায় ছাত্রদলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ‘বিশেষ নিরাপত্তা’ দিয়ে ক্যাম্পাসে এনেছে। আবার আলোচনা শেষে তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে দিয়ে এসেছে।

সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান থাকলে ডাকসুর আলোচনা সভায় ছাত্রদলের নেতাদের কেন বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রক্টর বলেন, ‘তারা যেভাবে আসতে চেয়েছে সেভাবে করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একক কোনও ছাত্র সংগঠনের নয়। কোনও অছাত্র ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে তো আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারি না।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘ছাত্রলীগের যারা বর্তমান কমিটিতে রয়েছে তাদেরও অধিকাংশের ছাত্রত্ব নেই। সব দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হলো প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যখনই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চেয়েছি ছাত্রলীগের হামলা এবং বাধার সম্মুখীন হয়েছি।’

ক্যাম্পাসে নিজেদের সর্তক অবস্থানের বিষয়ে ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘কে আসলো না আসলো, এটা ব্যাপার না। আমরা আমাদের অবস্থানে সতর্ক আছি। ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে অবস্থান করার সাহস বা সামর্থ্য নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ আমাদের সংগঠনের সাতজন নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। তখন আমাদের কর্মীরা সংগঠনের পরিচয় দেওয়ার পরেও মার খেয়েছে। ক্যাম্পাসে তারা একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। তারা (ছাত্রলীগ) ক্যাম্পাসের এক ধরনের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। এখানে অন্য ছাত্র সংগঠনকে কোনও ধরনের কর্মসূচি করতে দেবে না। তারা শুধু মুখেই বলে সহাবস্থানের কথা। কিন্তু বাস্তবে এর কোনও মিল নেই।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘যারা ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পায়, তাদের মনে সমস্যা আছে। আমরা কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ যদি কেউ নষ্ট করে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করবে। আমরা কাউকে ক্যাম্পাসে আসতে বাধা দেবো না। তবে যদি ‘শিবিরের’ কেউ ঢোকে তাহলে আমরা তা মেনে নেবো না।’

বাম সংগঠনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কি ক্যাম্পাস বিক্রি করে দিয়েছি, না পুরো ক্যাম্পাস দখল করে নিয়েছি? সবার সহাবস্থানকে আমরা স্বাগতম জানাই। ক্যাম্পাসে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্লাস করছে, টিএসসিতে আড্ডা দিচ্ছে। তাদের কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button