ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ

0
26

ঢাকা , ৩১ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট উৎসবে সারা দেশে প্রায় ১০ কোটি ভোটার ভোট প্রদানের সুযোগ পেয়েছিলেন। তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের মতো ভোটার ভোট প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার সময় এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোট দানের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত পুরো জাতি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট উৎসবের মাধ্যমে নতুন একটি সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত খবর ও আজকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের শিরোনাম দেখলে বোঝা যায়, জাতি কতটা ভোট উৎসবে মেতেছিল।

সিইসি বলেন, শুধু দেশীয় নয় বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যম সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছে। নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ১৬টি ভোট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনায় সারা দেশে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কমিশন এজন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বি. বাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় ফলাফল ঘোষণা করা যায়নি। গাইবান্ধায় একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

২৯৮টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পেয়েছ ২৫৯টি, জাতীয় পার্টি ২০টি, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৫টি, গণফোরাম ২টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ২টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি ও স্বতন্ত্র ৩টি।

আপনারা জানেন নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর মধ্যে যাতে কোনো শঙ্কা না থাকে, প্রতিটি ভোটার নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য, সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচনকালে সশন্ত্র বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের একক প্রচেষ্টায় জাতীয় নির্বাচনের মতো মহাকর্মযজ্ঞ আয়োজন করা সম্ভব নয়। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও সহযোগিতায় এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সচিবসহ কর্মকর্তাদের, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।