ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির প্রার্থীদের বিশেষ নির্দেশনা

0
20

ঢাকা , ০৩ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে প্রার্থীদেরকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আসা একাদশ নির্বাচনের প্রার্থীদের হাতে নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীকে ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের তথ্য দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে দুটি চিঠি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট- ৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শফি আহমদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দুইটি চিঠি পেয়েছি। দলের নির্দেশ মতো আমরা কাজ করবো।’

ধানের শীষের প্রার্থীদের দেওয়া চিঠিতে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনের পূর্বাপর সরকারি বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের আঘাতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবার ও আহতদের সুচিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের সময়ে যাদের বাড়িঘর, দোকান-পাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ সহায় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সগযোগিতা করার জন্য প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে দলের সব গ্রেফতারকৃত ও মিথ্যা মামলায় জড়িত নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া ও তাদের সহযোগিতা করতেও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

অপর চিঠিতে একাদশ নির্বাচনে প্রতিটি সংসদীয় এলাকার প্রার্থীদের প্রতি ৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সব প্রার্থীদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং সন্ত্রাসের একটি সচিত্র প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বরাবর জমা দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রার্থীর নিজের এবং পরিবারের অবরুদ্ধতা কিংবা হামলায় আহত ও সহায় সম্পদের ক্ষতিগ্রস্ততার তথ্য ও ছবি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনের দিন ধানের শীষের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্ট, প্রার্থীর সমন্বয়কারী, নেতাকর্মীদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া এবং গ্রেফতারের তালিকা দিতেও বলা হয়েছে।

ভোটের পূর্ব রাতে ও ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত ভোট জালিয়াতি প্রমাণ এবং ভোটকেন্দ্রসমূহের প্রকৃত ভোট সংখ্যার চেয়ে প্রদর্শিত ভোট সংখ্যা অধিক বা প্রায় সমসংখ্যক হয়ে থাকলে নামসহ প্রকৃত হিসাব দিতেও বলা হয়েছে।

নির্বাচনি সহিংসতায় আহত-নিহত দলীয় নেতাকর্মীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা এবং আক্রান্তের ছবিসহ ঘটনার বিবরণ দিতেও বলা হয়েছে প্রার্থীদের।

এছাড়া যেকোনও প্রকার অপরাধের আইনানুগ প্রতিকার লাভের জন্য থানা বা আদালতে জিডি, মামলা করা হয়ে থাকলে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জিডি বা মামলা গ্রহণ প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে তার কপিও দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের।

নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন বা অন্য যেকোনও প্রকার অভিযোগের বিষয়ে রির্টানিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে থাকলে তার ফটোকপিও দিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।