নতুন সরকার সোমবার

0
190

ঢাকা , ০৪ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হচ্ছে আগামী সোমবার। এ দিন বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ দিন বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে সকালে শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে পৌঁছলে শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এরপর বৈঠক করেন তারা। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার ও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

এ সাক্ষাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারি (সোমবার) বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভাকে বরণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্ত্রিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা গঠনের দাফতরিক কাজগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করে থাকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (বিধি ও সেবা) শফিউল আজিম বৃহস্পতিবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এ সংক্রান্ত ফাইল প্রস্তুত করাই রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

জানা গেছে, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের (প্রধানমন্ত্রীসহ) শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ফের জোটগতভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে মহাজোটের শরিকরা (১৪ দল, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট) তাদের সম্মতি জানিয়েছে।

তবে ‘বিরোধী দল’ কে হবে- তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকুক। এ নিয়ে কথাও হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি তা চায় না। যদি তারা সরকারে থাকে তাহলে তো মহাজোটের সরকারই হবে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর সরকারে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি। বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের দলটির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আমরা মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছি। আমরা মহাজোটের সঙ্গে অতীতে যেভাবে রাজপথে ও সরকারে ছিলাম ঠিক সেভাবেই থাকতে চাই।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যুগান্তরকে বলেন, আমরা ১৪ দলের সঙ্গে আছি; সঙ্গেই থাকব। সরকারেও যেভাবে আছি থাকতে চাই। তবে সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠন করেছিল। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন করে সরকার গঠন করে দলটি। বর্তমান মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির একজন মন্ত্রী, দু’জন প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রী মর্যাদায় একজন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত আছেন। এর বাইরে জাতীয় পার্টি (জেপি), ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে সদস্য মন্ত্রিসভায় আছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে অনেকেই জোর লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডির দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, প্রভাবশালী নেতাদের বাসায় মন্ত্রী পদপ্রত্যাশীদের আনাগোনা বেড়েছে। এদের মধ্যে নবনির্বাচিত এমপি, মনোনয়নবঞ্চিত নেতা এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকে আছেন।

সূত্র আরও জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় পুরনোদের অনেকেই বাদ পড়ছেন। এদের বেশির ভাগ পরিচিত মুখ। বয়স, শারীরিক অসুস্থতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অদক্ষতার কারণে তাদের বাদ দেয়া হচ্ছে।

এ তালিকায় প্রভাবশালী একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন। তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভা গঠন করার লক্ষ্যে পুরনোদের অনেকেই ছিটকে পড়বেন। নতুনদের স্থান দিতে নতুন মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন জেলা কোটায় স্থান পাওয়া কয়েকজন। সবমিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। এ তালিকায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

এছাড়া বাদের তালিকায় আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল, তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।

সূত্র আরও জানায়, নতুন মুখ হিসেবে মন্ত্রিসভায় যাদের স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই একে আবদুল মোমেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শ ম রেজাউল করিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. আবদুল আজিজ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আকবর হোসেন পাঠান ওরফে নায়ক ফারুক।

নতুন মুখ হিসেবে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন- নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, গোলাম দস্তগীর গাজী, নূর ই আলম চৌধুরী লিটন, দীপংকর তালুকদার, জাহিদ আহসান রাসেল, র আ ম উবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন, ডা. হাবিবে মিল্লাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। টেকনোক্র্যাট কোটায় অর্থনীতিবিদ ড. ফরাসউদ্দিন ও আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য- সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম আলোচনায় আছে।

দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আবদুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক- আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক। এদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে টেকনোক্র্যাট কোটায় একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে একজনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করা হতে পারে। এর বাইরে থাকা দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনির মধ্যে একজনের ঠাঁই হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভায়।

পুরনোদের মধ্যে যাদের নতুন মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল তারা হলেন- শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।