মালিক এবং শ্রমিক একটি বাইসাইকেলে দুটি চাকা: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী

0
43

ঢাকা , ০৮ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেছেন, মালিক এবং শ্রমিক একটি বাইসাইকেলে দুটি চাকা, একটি না থাকলে আরেকটি চলবে না। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে শ্রমভবনে অনুষ্ঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। বেতন বৈষম্যসহ বিভিন্ন দাবিতে করা পোশাক শ্রমিকদের টানা তিন দিনের আন্দোলন নিরসনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিপক্ষীয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

বৈঠকে সরকারপক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষে পোশাক শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা এবং পোশাক কারখানা মালিকদের পক্ষে বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআই এর নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী পোশাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘মালিক এবং শ্রমিক একটি বাইসাইকেলে দুটি চাকা, একটি না থাকলে আরেকটি চলবে না। আমাদের একসঙ্গে চলতে হবে। এর বাইরে যারা আন্দোলন করছেন তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু কোনও ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে সাইবার ক্রাইম শুরু হয়ে গেছে। আপনরা সবাই সতর্ক থাকবেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান আমরা শিগগিরই করবো।’

এ বৈঠকে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোতে কোনও ধরনের অসঙ্গতি বা বৈষম্য থেকে থাকলে তা সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে  চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচ জন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন। তারা সংশ্লিষ্ট অন্য অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে শ্রমিক নেতারা কথা বলেছেন, মালিক নেতারা কথা বলেছেন। শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর কোনও কোনও গ্রেডে অসঙ্গতি আছে। এটা সমাধানের জন্য শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের পাঁচ জন করে সদস্য কমিটিতে থাকবেন। এছাড়াও শ্রম সচিব, বাণিজ্য সচিব, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা কমিটিতে থাকবেন। তারাসহ সংশ্লিষ্টরা বসে এটা সমাধান করবেন। সমাধান অবশ্যই হবে। এখানেই শেষ নয়। বাইরে থেকে যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করছেন তারা এই ট্রেডের বন্ধু নয়, তারা এই ট্রেডের লোক নয়। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে।’

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যদি পর্যালোচনার পর কোনও গ্রেডের শ্রমিকদের বেতন বাড়ে তবে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের শুরু থেকেই তা পরিশোধ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সংশোধিত কাঠামোতে বেতন এবং আগের বকেয়া একসঙ্গে পাবেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসেই এই মজুরি বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি জানুয়ারিতেই সেই কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। এরপরেই এই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত রবিবার (৬ জানুয়ারি) বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। টানা তিন দিন ধরে এ আন্দোলন চলে।

এদিকে এই সময়কালে গত রবিবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য কারা হচ্ছেন তা জানা যায়। সোমবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে নিজ নিজ কার্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ সমস্যা সমাধানে  উদ্যোগী হয় সরকার। সরকারের পক্ষে নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী আজ বিকাল চারটায় শ্রমভবনে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান।

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে  ‍শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন,‘ শ্রমিকদের নেতা হয়ে যেন শ্রমিকদের শেষ না করেন। কোনও নৈরাজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, শ্রম সচিব আফরোজা খান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ ও আতিকুল ইসলাম, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর বর্তমান সহসভাপতি মো. নাসির, বিজিএমইএর বর্তমান সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।