ক্যাম্পাস

বন্ধুরা চাকরির আবেদন করছে আর আমরা অনার্সেই আছি

ঢাকা , ১৩ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করে আমার বন্ধুরা অনেকেই চাকরির আবেদন করছে-কিন্তু আমি একই সঙ্গে পড়ে এখনও অনার্স পড়ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা না হওয়ায় সেশনজটে পড়ে পরিবারের বোঝা হয়ে আছি। আমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থার অবসান চাই।’

শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এমন কথা জানাচ্ছিলেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ফিসারিজ অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর ছাত্র শফিউল আলম।

তিনি জানান, নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ ও ডিসেম্বরে রেজাল্ট হওয়ার কথা। কিন্তু দুই মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আন্দোলন এবং ক্লাস ও পরীক্ষা না হওয়ায় আমরা সেশনজট ও শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরা তাদের নিজেদের জন্য আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

একই কথা জানান একই ক্লাসের ছাত্র আরিফ সরকার, মো. মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

ফিসারিজ অনুষদের লেভেল-২, সেমিষ্টার-১ এর ছাত্র আখতারুজ্জামান বাবু জানান, লেখাপড়ার জন্য প্রতিমাসে বাড়ি থেকে ৫-৭ হাজার টাকা নিতে হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া হচ্ছে না। উল্টো বসে বসে সময় নষ্ট হচ্ছে। বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে বসে বসে খেতেও লজ্জা লাগছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরা আমাদের এই অবস্থার কথা ভাবলে-তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের সংকট সুরাহা করে আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা নিতো। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের কথা ভাবলেও আমাদের কথা ভাবেন না। তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য আমাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সেশনজটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরা এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। কবে নাগাদ ক্লাস ও পরীক্ষা চালু হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

রোববার এই অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ হাবিপ্রবিতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার ন্যুনতম কোনো দৃশ্যই পরিলক্ষিত হয়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়িতে বসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

প্রশাসনিক ভবনের বামদিকে নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। আর ডানদিকে প্রগতিশীল শিক্ষক তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করছে।

অফিসে নেই ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম। গত দুমাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে কার্যতঃ অচল হয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রোববার ছিল এই চিত্র।

এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে বাধ্য হয়েই রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে তালা দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ক্লাশ-পরীক্ষা চালু না করায় প্রশাসনকে দায়ী করে সিঁড়িতে বসে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরে বিকাল ৩টায় শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আলটিমেটাম দিয়ে তালা খুলে দেয়।

পাশাপাশি নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিতকারীদের বিচার, বেতন-বৈষম্য নিরসন, ছাত্রীর যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিচারসহ কয়েকটি দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানিকারীদের বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও।

এতে করে গত প্রায় ২ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক আন্দোলনে থাকায় অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে দুমাস ধরে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার।

এদিকে ক্লাশ-পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত বুধবার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে বৃহস্পতিবার প্রশাসন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও সহকারী অধ্যাপকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু দিনভর আলোচনা করেও কোনো সুষ্ঠু সমাধান করতে পারেনি প্রশাসন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button