সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টা উপসাগরীয় দেশগুলোর

0
56

ঢাকা , ১৩ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

একাকালে সিরিয়ার বিরোধিতায় জড়িয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ, তারাই এখন তুরস্ক ও ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি ঠেকাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দামেস্কতে দূতাবাস খোলার জন্য শুরু করেছে যোগাযোগ। আসাদ প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন। তারপরও সিরিয়াকে আবার আরব লিগের সদস্যপদ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, শুধু তুরস্ক ও ইরানের প্রভাব বিস্তার ঠেকানো নয়, সিরিয়ার বাসার আল আসাদের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক জোড়া দিতে চাওয়ার পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থও। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর কাজ পেতে চায় তারা।

২০১১ সাল গৃহযদ্ধ শুরুর পর সিরিয়াকে আরব লিগ থেকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। বেশিরভাগ আরব ও পশ্চিমা দেশ সিরিয়ার দূরত্ব রাখছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র তো সিরিয়াতে তাদের দূতাবাসই বন্ধ করে দিয়েছিল। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যহারের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১২ সালে উত্তরাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট যে এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছিল মার্কিন বাহিনী চলে গেলে তা আবার ফিরে পাবে আসাদ সরকার। নিয়ন্ত্রণের বাইরে সামান্য কিছু অংশ থেকে যাবে, যেগুলো জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রায় পুরো সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ আবার আসাদের হাতে আসতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বাসার আল আসাদ সরকারের পতন ঘটাতে যেসব বিদ্রোহী যুদ্ধ করছিল, তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। কিন্তু এখন বাসার আল আসাদকে আরব দেশগুলোর একটি হিসেবেই ধীরে ধীরে গ্রহণ করে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি কাজ করছে বাণিজ্যিক হিসেব। পুনর্গঠনের প্রকল্প পাওয়া ছাড়াও রয়েছে সীমান্ত পারাপারের প্রসঙ্গ। আরব বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই দামেস্কতে আবার ফ্লাইট চালুর কথা ভাবছে।

এসোসিয়েটেড প্রেস লিখেছে, আসাদের জন্য এই অগ্রগতি বিস্ময়কর। কারণ একটা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন, তার সেনাবাহিনী পরাস্ত হবে। ২০১৫ সালে রুশ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং ইরানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আসাদ দখলে নিতে পেরেছিলেন হোমস এবং আলেপ্পোর মতো শহর। আর এখন তো প্রায় সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকাই তার নিয়ন্ত্রণে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফয়সাল ইটানি মন্তব্য করেছেন, ‘সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করে নেওয়াটা আরব দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক একটা বিষয়। সৌদি আরবই প্রাথমিক পর্যায়ে আসাদকে উৎখাতের চেষ্টা করা বিদ্রোহীদের সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখনকার প্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাশা, আসাদকে যতটা স্মব্ব পক্ষে রাখা, যাতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা প্রতিরোধ করা যায়। সুন্নি অধ্যুষিত আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আসাদের সিরিয়াকে ইরানের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখাটা জরুরি। সিরিয়া যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অঞ্চলটিতে ইরানের প্রভাব উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ারও অবশ্য প্রয়োজন রয়েছে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতার। পুনর্গঠনের জন্য যে ২০ হাজার কোটি থেকে শুরু করে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ দরকার তা উপসাগরীয় দেশগুলোর আছে। আরব লিগের সদস্যদের মধ্যে প্রথম এগিয়ে এসেছেন সুদানের প্রেসিডেন্ট। তিনি একটি রুশ বিমানে চড়ে গত মাসে সিরিয়া সফরে করেছেন। এই সফর দেখে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাকি নেতাদেরও একই পথ অনুসরণ করবেন।

গত বুধবার (০৯ জানুয়ারি) মিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি বলেছেন, সিরিয়া সংকটের সমাধানে রাজনীতি অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত সিরিয়ার আরব লিগে ফিরতে পারার বিষয়টি। অন্যদিকে লেবাননের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য আরব ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে আসাদকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

অন্যদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের গবেষক অ্যারন লুন্দ মন্তব্য করেছেন, ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে, ধীরেও হতে পারে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে্,‌ আসাদ এখন যে অবস্থায় আছেন তাতে এই অঞ্চলের সব দেশই সুসম্পর্ক রেখে সুবিধা নিতে চাইবে। সাগরের অপর পাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা ভাবতে পারেন, সিরিয়া যা হয়ে উঠেছে আসলে সে তা নয়। কিন্তু জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহর মতো কারও পক্ষে সেরকম কল্পনা সম্ভব নয়।’
সুরে পাল্টেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদয়ানও। ক্ষেপে গিয়ে একসময় যে এরদোয়ান বলেছিলেন, আসাদের উৎখাতের পর তিনি দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়বেন, সেই এরদয়ান এখন সুর নরম করে বলছেন, আসাদ যদি সুষ্ঠু নির্বাচনে জিতে আসে তাহলে তিন তার সঙ্গেও কাজ করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here