জাতীয়প্রধান সংবাদ

শহীদ অফিসারদের পরিবার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে

ঢাকা , ২৫ ফেব্রুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শহীদ অফিসারদের প্রতিটি পরিবারকে (৬১টি পরিবার) ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব শহীদ পরিবার পেনশন কম্যুটেশন বেনিফিট পেয়েছেন।

সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে সব পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী পরিবার নিরাপত্তা প্রকল্প তহবিল থেকে সব পরিবার ৮ লাখ টাকা (সৈনিক পরিবার দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা) করে পেয়েছে। বিডিআর তহবিল থেকে সকল পরিবার (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছে। সৈনিক পরিবার স্যাপার্স কল্যাণ তহবিল থেকে তিন হাজার টাকা পেয়েছে।

অফিসার কল্যাণ তহবিল থেকে সব পরিবার নির্ধারিত হারে (পিতা/মাতা, স্ত্রী ও সন্তান) ভাতা পেয়েছে। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) মাসিক ৪০ হাজার টাকা করে (বাৎসরিক চার লাখ ৮০ হাজার টাকা) ১০ বছর পর্যন্ত মোট ৪৮ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সৈনিক পরিবারকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে (বাৎসরিক এক লাখ ২০ হাজার টাকা) মোট ১০ বছর পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। দুই লাখ টাকার ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচ্যুয়াল প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণ করেছে ৫৬ পরিবার।

প্রত্যেক পরিবার সিএসডি থেকে এককালীন ২১ হাজার ৩০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সিএসডি ডিসকাউন্ট কার্ড পেয়েছে। শহীদ পরিবারের চারজন সদস্য ভর্তি/টিউশন ফি ব্যতীত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। সেনাবাহিনীর অধীনস্থ বিভিন্ন স্কুল/কলেজে অধ্যয়নরত শহীদ পরিবারের মোট ৪৫ জন শিশুর ভর্তি/টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অধীনস্থ নয় এমন স্কুল/কলেজে অধ্যয়নরত (পিটারপেন, রাজউক, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, শাহীন স্কুল) শহীদ পরিবারের মোট ৩২ জন শিশুরও ভর্তি ও টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের মোট ১১ জন ছেলে ও মেয়েকে বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৪৬টি আগ্রহী শহীদ পরিবারকে বিভিন্ন সেনানিবাসে সরকারি বাসস্থানে অবস্থানের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি শহীদ পরিবার অদ্যাবধি সেনানিবাসে বসবাস করছেন। মোট ৩১ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে বিভিন্ন চাকরি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন বিদেশে চাকরি পেয়েছেন (দুই জন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে এবং একজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে)।

সব শহীদ পরিবারের সদস্যরা সিএমএইচে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। মোট ৬০টি পরিবারের মধ্যে (একজন অবসরপ্রাপ্তসহ) ১২ জন অফিসার পূর্বেই ডিওএইচএস/রাউজকের প্লট পেয়েছিলেন। বাকি ৪৭ জনকে চাকরির দৈর্ঘ্য বিবেচনায় নিম্নলিখিতভাবে প্লট বা ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে-

ক. ৩৮ শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুর, মহাখালী ও চট্টগ্রামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খ. ৬টি শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুরে দুটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লট প্রাপ্ত হননি)। গ. ৪টি শহীদ পরিবোর যারা পুনঃবিবাহ করেছেন তাদেরকে ডিওএইচএস মিরপুর একটি করে ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লট প্রাপ্ত হননি)। ঘ. সৈনিক পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনা পল্লী আবাসন প্রকল্পে ১টি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে। সব শহীদ পরিবারকে এএইচএস এ প্লট (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) প্রদান করা হয়েছে যা ডিওএইচএস এ প্লট প্রাপ্তির অতিরিক্ত।

শহীদ একজন সৈনিকের পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনাপল্লী আবাসন প্রকল্পের বিনা মূল্যে ১টি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে। সব শহীদ পরিবারের সেনানিবাস্থ বাসায় অবস্থানকালে সামরিক টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ১৫টি শহীদ পরিবারের হাউজ বিল্ডিং লোন (মূলসহ) মওকুফ করা হয়েছে। সেনানিবাসে অবস্থানরত সব শহীদ পরিবারকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুগ্ধ কার্ড এবং ঘি দেওয়া হয়েছে।

তিনটি শহীদ পরিবারের কম্পিউটার লোন মওকুফ করা হয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য পাঁচজন শহীদ অফিসারের মা-বাবাকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে ২০১৬ সালে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অদ্যাবধি শহীদ পরিবারকে চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় সাবেক বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তরে ঘটে ওই নারকীয় হত্যকাণ্ড। মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত হয় নারী ও শিশুসহ আরো ১৭ জন।

হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১ ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরো ১৯৪ জনকে এবং খালাস দেওয়া হয় ২৯ জনকে।

প্রতিবারের মতো নিহতদের স্মরণে এবারও নানা কর্মসূচি পালন করছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button