পায়রা নদীতে কুমির, আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ!

0
33

ঢাকা , ০৩ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

বরগুনার পায়রা নদীর বুড়িরচর থেকে শনিবার সন্ধ্যায় কুমির আটক করেছে এলাকাবাসী। কুমিরটি লম্বায় সাড়ে ৫ ফুট। ওজনে ১৬ কেজি।

বেল্লাল মৃধার বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় কুমিরটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পায়রা নদী সংলগ্ন বুড়িরচর এলাকার নাপিতখালী গ্রামের সতীশ চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে নিশোক হাওলাদার শনিবার সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। ওইখানে চরে একটি কুমির দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয় বেল্লাল মৃধা, সুনীল, পলাশ গাজী, সাগর, সোহেল, লিটন, জাহাঙ্গীর, মামুন, পারভেজ, ছগির ও বাহাদুরসহ ১০-১২ কুমিরটিকে জাল দিয়ে আটক করে পার্শ্ববর্তী বেল্লাল মৃধার পুকুরে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিরটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে এসে ওই বাড়িতে ভীর জমায়। খবর পেয়ে বরগুনা বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে কুমিরটি মৃত্যু অবস্থায় উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ জুন ‘পায়রা নদীতে কুমির আতঙ্কে জেলেরা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময়ে কুমির আতঙ্কে জেলেরা নদীতে প্রায় ১ মাস মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে মৎস্য বিভাগের আশ্বাসে জেলেরা নদীতে মাছ ধরা শুরু করে।

রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমির আটকের খবর পেয়ে পায়রা নদীতে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের মাঝে আতঙ্ক একটি কুমির ধরা পরলেও নদীতে আরও কুমির রয়েছে।

নাপিতখালী গ্রামের সতীশ চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে নিশোক চন্দ্র হাওলাদার জানান, শনিবার সন্ধ্যায় পায়রা নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে চরে একটি কুমির দেখতে পাই। কুমিরটি দেখে ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয় ১০-১২ জন ছুটে আসে। পরে কুমিরটি জাল দিয়ে আটক করে বেল্লাল মৃধার পুকুরে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে বন বিভাগকে খবর দেই। তারা আসার পূর্বেই কুমিরটি মারা গেছে।

বরগুনা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, পায়রা নদী থেকে কুমির আটক করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মৃত্যু অবস্থায় কুমিরটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে কুমিরটির চামড়া সংরক্ষণ করে দেহ মাটি চাপা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কুমিরটি যদি কেউ মেরে ফেলে থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বন আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।