লাইফস্টাইল

বেতন সমঝোতা: বেশি টাকা নাকি চাকরি জরুরি?

ঢাকা , ০৩ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

আপনি যখন বেতন নিয়ে কথা বলবেন, তখন কি  টাকার বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পাবে, নাকি কোম্পানির প্রথম অফারটাই মেনে নেবেন? নতুন চাকরি প্রত্যাশীরা সাধারণত টাকার ব্যাপারে কথা বলতে পারেন না। আবার চাকরিটা হারানোর ভয়ে অনেকে বেশি টাকার প্রস্তাবও দিতে পারেন না। দুটো সিদ্ধান্তই সঠিক। তবে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এগুতে হবে আপনাকে।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ পল বারাদার মতে, যদি আপনি মনে করেন কোম্পানির বেতন অফারটা গ্রহণযোগ্য, তাহলে হ্যাঁ বলুন। শুধু সমঝোতার খাতিরে বেতন নিয়ে দরকষাকষি করা ঠিক নয় কখনো। অন্য অনেক ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে একমত। অনেকে আবার এর বিরোধিতা করেছেন। দুটি সিদ্ধান্তই খুঁটিয়ে দেখতে হবে আপনাকে।

সব সময় সমঝোতা : ক্যারিয়ার বিষয়ক লেখক আড্রিয়ানা লিয়ামস বলেন, কোনো কোম্পানি যখন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেন, তখন সাধারণত বেতনের ব্যাপারে তারা সমঝোতা করে নেন। তার মতে-  ‘প্রথম পছন্দের মতো দ্বিতীয় পছন্দ কখনোই অতো ভালো হয় না। কোম্পানি তার প্রথম পছন্দের চাকরি প্রার্থীর জন্য সাধারণত বেশি বেতনের অফার দেন। তবে প্রতিটা কোম্পানির বেতন বাজেটের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চাকরি গ্রহণের আগে বেতন নিয়ে সমঝোতা করা নিয়োগ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।’ মার্কিন ক্যারিয়ার কোচ লরেন মিলিগানের মতে- ‘আপনার সঙ্গে যদি নিয়োগদাতা বেতন নিয়ে সমঝোতা আলোচনা করতে চায়, তাহলে বুঝে নেবেন নিয়োগদাতা আপনাকে চাচ্ছেন। তার কাছে আপনার মূল্য রয়েছে। আর যদি তাদের প্রথম অফারটিতে আপনি রাজি না হয়ে একটু দ্বিমত প্রকাশ করেন, তাতে আপনার প্রতি নিয়োগদাতার আগ্রহ কমে যাবে না।’ আরেক ক্যারিয়ার কোচ ড্যারেল গারনে বলেছেন, অনেক কোম্পানির কিছু পদ থাকে, যেখানে কর্তৃপক্ষ আশা করেন যেন আপনি বেতন নিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসেন আগে। তার মতে- ‘বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বা সেলসের পদে কর্তৃপক্ষ আপনাকে যে বেতন অফার করেন, বিনা দ্বিধায় তা মেনে নেয়া আপনার সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। কারণ এটি বিজনেসের মৌলিক শর্তকে উপেক্ষা করে। দরকষাকষি বিজনেসের একটি শর্ত। তাই কোনো প্রার্থী যদি বেতন নিয়ে সমঝোতা করতে আগ্রহ বা দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হন, তাহলে নিয়োগদাতা তাকে প্রাথমিকভাবেই অযোগ্য মনে করতে পারেন।’

কখন সমঝোতা করা ঠিক না : অন্যদিকে অনেক ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ বলেন, কিছু সময় আছে যখন বেতন নিয়ে সমঝোতা করা ঠিক না। কারণ আপনি যে বেতন আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ হয়তো তার চেয়ে বেশি বেতন ধার্য করেছে আপনার জন্য। তাই আগে জেনে নিতে হবে কোম্পানি ওই পদের জন্য কতো বেতন বরাদ্দ রেখেছে। জব সার্চ অ্যাডভাইজর লেভি মারগোলিনের মতে, যদি কোম্পানির দেয়া বেতনের অফারের সঙ্গে আপনার প্রত্যাশিত বেতনের বড় ধরনের ব্যবধান থাকে, তাহলে বেতন নিয়ে সমঝোতা করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু না। আরেকটি সমস্যা হলো, আপনি হয়েতো একাধিকবার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। নিয়োগদাতারা আপনাকে পছন্দও করেছেন, কিন্তু পরে বেতনের আলোচনায় আপনি এমন  বেতনের কথা বললেন, যা নিয়োগদাতাদের বরাদ্দকৃত বেতনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এতে নিয়োগদাতারা আর আপনার সঙ্গে সমঝোতারও আগ্রহ খুঁজে পাবেন না। বেতন নিয়ে সমঝোতা করা সব সময় ঝুঁকির কাজ। তবে আপনার পছন্দ না হলে যদি অফারটা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে আরেকজন যোগ্য এবং ওই বেতনে কাজ করতে ইচ্ছুক কোনো প্রার্থী হয়তো সে চাকরিটা পাবেন।

বেতন ছাড়াও আরো কিছু থাকতে পারে : নতুন চাকরিতে যখন আপনি কোনো অফার পাবেন, তখন বেতনটা অবশ্যই মুখ্য। তবে যদি বেতন তেমন আশানুরূপ নাও হয়, মনে রাখতে হবে বেতন ছাড়াও আরো কিছু থাকতে পারে আপনার জন্য। জেনে নিন বোনাস, ইনক্রিমেন্ট ও ওভার টাইম ডিউটির জন্য বাড়তি টাকা পাওয়ার সুবিধাগুলো আছে কি না। যদি বেতন নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকেও, ভালো কাজের পরিবেশ, ভালো সহকর্মী, বাড়তি দায়িত্ব, প্রমোশন, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হলে চাকরিটা বেছে নিতে পারেন আপনি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button