সারাদেশ

আমার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল

ঢাকা , ০৪ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা চরপাড়া গ্রামে আমেনা খাতুন (২৫) নামে এক সেনাসদস্যের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকেলে ভেড়ামারা চরপাড়া গ্রামে গৃহবধূ আমেনার শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় আমেনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আমেনার পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, পরকীয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছেন আমেনা।

আমেনা ফরিদপুর উপজেলার হাংড়াগাড়ি গ্রামের আমির প্রামাণিকের মেয়ে এবং ওই গ্রামের সেনাসদস্য মো. সোহেল রানার স্ত্রী। সোমবার গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ দশ বছর আগে সেনাসদস্য রানা একই উপজেলার রামনগর গ্রামের খয়ার সরকার মেয়ে আদুরি খাতুনকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তার নাম অনিক ফয়সাল (৮)। বিয়ের আট বছর পর প্রথম স্ত্রী আদুরি খাতুন মারা গেলে পারিবারিকভাবে আমেনা খাতুনকে বিয়ে করেন সেনাসদস্য রানা।

বিয়ের পর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। আমেনার সাড়ে তিন বছর বয়সী শশী নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সোহেল রানা ঢাকা বনানী সেনানিবাসে ল্যান্স কর্পোরাল পদে কর্মরত রয়েছেন।

এলাকাবাসী ও মৃত আমেনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে আমেনা রানার প্রথম স্ত্রীর সন্তান ফয়সাল ও তার কন্যাকে নিয়ে বাড়ির পাশে স্কুলের অনুষ্ঠানে যান। দুপুরে আমেনা তার কন্যা ও ননদের সঙ্গে বাড়িতে আসেন। পরে একজন প্রতিবেশী আমেনাকে তার শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে থানা পুলিশকে খবর দেন।

আমেনার বড় ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বোন আমেনাকে মিথ্যা একটি অভিযোগ দিয়ে আসছিল তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এটি আত্মহত্যা নয়, বরং তাকে হত্যা করে তারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে আমেনার স্বামী সেনাসদস্য সোহেল রানা বলেন, এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির সঙ্গে আমার স্ত্রী আমেনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই ঘটনায় আত্মহত্যা করেছে আমার স্ত্রী আমেনা।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ওসি মো. মাসুদ রানা বলেন, গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button