রাজধানীতে ৮৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন ঘটে চালক ও চালকের সহকারীর দ্বারা

0
20

ঢাকা , ০৬ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

বাংলাদেশের শতকরা ৮৮ জন নারী রাস্তায় চলার পথে অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হন। এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ চালক ও চালকের সহকারীর দ্বারা এবং শতকরা ৬৯ জন দোকানদার এবং বিক্রেতার মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। আজ বুধবার ‘শব্দে জব্দ নারী’ বিষয়ে অ্যাকশন এইড এর আয়োজনে ‘সেইফ সিটিজ ফর উইমেন’ ক্যাম্পেইনের একটি গবেষণার ফল প্রকাশের সময় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণালব্ধ ফল ও শব্দে জব্দ নারীর ধারণাপত্রের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা অভিমত জানান। তারা বলেন, ঘরে-বাইরে অবমাননাকর শব্দের ব্যবহার নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করছে। এতে নারীর মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান হয় না এবং এখনও তারা প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষার ব্যবহারে সংবেদনশীলতা না এলে নারীর ক্ষমতায়ন হবে না।

নারীর প্রতি সব ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার রোধে সচেতনতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ আয়োজন করে ‘শব্দে জব্দ নারী’ অনুষ্ঠানটির। বুধবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারীনেত্রী, সংগঠক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আয়োজনে ছিল নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পাঠ্যপুস্তক, সিনেমা এবং প্রাত্যহিক জীবনে যে ধরনের অবমাননাকর শব্দের শিকার হন তার প্রদর্শনীর।

অনুষ্ঠানে নারী বিষয়ক একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়

অনুষ্ঠানের ধারণাপত্রে বলা হয়, একটি সমাজের প্রচলিত ভাষা সেই সমাজ এবং তার জনগণের মতাদর্শকে বহন করে। আমাদের সমাজে নারীকে দাবিয়ে রাখতে এবং হেয় করার জন্য এই ভাষার ব্যবহার মাত্রাধিক এবং এটি সমাজের মানুষের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। অশোভন ভাষা ও কটূক্তি একজন নারীর মানসিক, শারীরিক এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘‘ঘরে-বাইরে প্রথমেই একজন নারীকে ভাষার মাধ্যমে হেয় করা হয়, যাতে তিনি মানসিক ও সামাজিকভাবে এগুতে না পারেন। শব্দ, বাক্য এবং উক্তিতে কোনও লিঙ্গ থাকার কথা না। কিন্তু সেই ভাষাকেই লিঙ্গ অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- অনেক সময় মেয়েদের পরিচয় করিয়ে দিতে ‘মেয়েমানুষ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। মানুষ হিসেবে পরিচয় করানো হয় না। আমরা বুঝে না বুঝে সবাই ভাষার মাধ্যমে নারীকে হেয় করি। এর পরিবর্তন আনতে নারীর নিজেকেই প্রথমে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে নারীনেত্রী খুশি কবির বলেন, “কর্মক্ষেত্রে নারীদের সব সময় প্রমাণ করতে হয় যে তারাও পারে। শব্দকে তৈরি করা হয় নারীর বিরুদ্ধে। শব্দকে লিঙ্গভিত্তিক করা হয়। শব্দকে নারী-পুরুষে বিভেদ করা যাবে না। কোনও শব্দের আলাদাভাবে মূল্যায়ন বন্ধ করতে হবে।’’

শব্দ আমাদের সামনে ছবি এবং অর্থ তৈরি করে উল্লেখ করে সিনিয়র সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী বলেন, “গণমাধ্যমে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন হয়তো কিছুটা পরিবর্তন আসছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উল্টো চিত্র আমরা পাই। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই আমাদের ভেতরের জগতটাকে পরিবর্তন করতে হবে।’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, “জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নারীকে শব্দজটে আটকানো হয়। যেমন মেয়েরা বিদ্রোহী হবে এটা আমাদের ভাষার অভিধানেই নেই। আর এটা হলো পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার ফল। একজন নারীও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার হতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘গালাগালের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীকেন্দ্রিক গালি দেওয়া হয়। আর সমাজে এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে।’

৮৬ শতাংশ যৌন হয়রানি চালক ও সহায়তাকারীর দ্বারা হয় এমন তথ্য সঠিক কিনা জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যা ‘র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি জানি না অ্যাকশন এইড এই ধরনের জরিপ কীভাবে করেছে। এর আগেও আমি এমন কথা শুনেছি। তাদের এই জরিপ কতটুকু সত্য তা নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে। এই জরিপ সঠিক বলে আমার মনে হয় না। তবে নারীরা বিভিন্নভাবে গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হন এটা সঠিক। আমরা চালক ও তার সহকারীদের (হেলপার ও কন্ডাক্টর) সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। মতবিনিময়সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে আসছি। গণপরিবহনে আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।’