জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কছিন্নের মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবনায় তথ্যমন্ত্রীর আশাবাদ

0
23

ঢাকা , ০৬ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামী এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলা হয়েছে। আশাকরি, মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাবের পর বিএনপি অতি শিগগির জামায়াতের সঙ্গে তাদের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলে ঘোষণা দেবে এবং তাদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছে সেজন্য জাতি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইবে’।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তথ্য আইনের ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালা উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম এনডিসি ও নেপাল চন্দ্র সরকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী এ সময় প্রস্তাবনার মূল অংশ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবনায় বিএনপিকেও জামায়াতের সঙ্গে সব সর্ম্পক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে’।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এতোদিন যে আহ্বান জানিয়ে আসছিলাম, সেটিই মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবনায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা হচ্ছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করে তারা নির্বাচন করেছে, সরকার গঠন করেছে, এখনো ২২ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী আছে’।

‘সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিষয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা হয়েছে এবং জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’ উলে­খ করে মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিন্তু দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি যখন জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হয়, তাদের জোটের মধ্যে যখন জামায়াত থাকে, তখন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়’।

‘আমি আশা করবো, মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাবের পর বিএনপি অতিশিগগির জামায়াতের সঙ্গে তাদের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলে ঘোষণা দেবে এবং তাদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছে সেজন্য জাতি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইবে’, বলেন ড. হাছান।

বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন এবং দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। উপমহাদেশের সকল রীতিনীতি ভঙ্গ করে আদালতের বিশেষ বিবেচনায় কারাগারে সর্বোচ্চ বিশেষ সুবিধা তাকে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গৃহপরিচারিকার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে যা ব্রিটিশ, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের কোনো আমলে হয়নি’।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া রাজবন্দী নন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তারপরও রাজবন্দীদের বেলাতেও যা হয়না, তার বেলায় সেই সুবিধাগুলো দেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট সবই রয়েছে তার জন্যে।’

‘তারপরও বিএনপি নেতারা ক’দিন পরপরই বেগম জিয়ার অসুস্থতার কথা বলেন, কিন্তু তার এ অসুস্থতা নতুন নয়’ উলে­খ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসুস্থতা নিয়েই তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, এই অসুস্থতা নিয়েই বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন, এই অসুস্থতা নিয়েই বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন।’

‘এরপরও তার জেল-কোড অনুযায়ী যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা তিনি পান, সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে’ উলে­খ করে ড. হাছান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখানকার চিকিৎসা যে বিশ্বমানের ছিল, সেটি ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সিঙ্গাপুর থেকে যারা এসেছিলেন তারাও বলে গেছেন।’

প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান, প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার এবং তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক অনলাইন ট্রাকিং সিস্টেম উপস্থাপন করেন তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম এনডিসি।