সাক্ষাৎকার

আমার টার্গেট সমগ্র বাংলাদেশ, আপাতত

ঢাকা , ০৭ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

বিশ্ব নারী দিবসে (৮ মার্চ) দেশের সব মাল্টিপ্লেক্স (৫টি) ও ১৭টি উল্লেখযোগ্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের চলচ্চিত্র ‘যদি একদিন’। এর আগেই ছবিটির মূল চমক হিসেবে ধরা দিয়েছেন দুই বাংলার আলোচিত দুই মুখ তাহসান ও শ্রাবন্তী। সঙ্গে বিশেষ চমক হিসেবে থাকছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ তারকা তাসকিন রহমান আর শিশুশিল্পী রাইসা।

জয়া নিবেদিত বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত ছবিটি নিয়ে টিম ‘যদি একদিন’ চলতি সপ্তাহে চষে বেড়াচ্ছে শহরের প্রায় সব প্রান্তে। বিশেষ করে নির্মাতা রাজ আর অভিনেতা তাহসান রিকশায় বসে রীতিমতো মাইকিং করছেন রাজপথ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর কলিংবেল চেপে ঢুকে পড়ছেন দর্শকদের ঘরে ঘরে। বলতে চাইছেন, ‘ছবিটি আমার, আপনার, সবার। চলুন হলে যাই, দেখি।’ এসব বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে সবিস্তারে কথা বলেছেন রাজ।

বাংলা ট্রিবিউন: রাত-দিন ছুটছেন। মুক্তির আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেমেছে ‘যদি একদিন’-এর মিছিল। এটি আপনার পাঁচ নম্বর ছবি। চলমান প্রচারণায় নতুন কিছু অনুভব করছেন? নাকি ঘুরেফিরে একই!
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: দেখুন আমি নিজেকে বরাবরই সময়ের বার্তাবাহক হিসেবে দেখতে চাই। মানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোটার চেষ্টা করি। পারলে সময়টাকে পিছু ফেলতে চাই। মানে আমার চেষ্টার কথা বলছি, দম্ভ ভেবে কষ্ট দেবেন না প্লিজ। সে হিসেবে এবারও আমি যাচ্ছি নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। এবারের যাত্রাটা ঈদ আনন্দের মতোই। প্রচারণার মাঠে সবাই মিলে প্রচুর এনজয় করছি। মানুষের ফিডব্যাক পাচ্ছি।

ছবির একটি দৃশ্যে তাসকিন ও শ্রাবন্তী
ট্রিবিউন:
 নারী দিবসকে সামনে রেখে ঈদের আনন্দ! এমন অনুভবের কারণ?
রাজ: জানেন নিশ্চয়ই, এর আগে আমার ৩টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি ছবি নিয়েই আমি একইভাবে ছুটেছি অথবা ছোটার চেষ্টা করেছি। যদিও সেই যাত্রাগুলো ছিল প্রায় একা। মানে, সিনেমা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পাইনি। আমাদের সিনেমার এটাই বড় দুর্ভাগ্য। শুটিং শেষে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সবাই খোদা হাফেজ! সব দায় একা নির্মাতা আর প্রযোজকের। আবার সিনেমাটা সফল হলে দেখা যায় সব ক্রেডিট নিয়ে নেন নায়ক-নায়িকারা! আর ফ্লপ হলে পরিচালক বানাতে পারেন না। অথচ এমন কাণ্ড পৃথিবীর কোনও সিনেমা শিল্পে আছে বলে আমার জানা নেই।

শুটিংয়ের ফাঁকে কক্সবাজার সৈকতে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছেন রাজ ও তাহসান
ট্রিবিউন:
 এটা সত্যিই বেদনার…। তবে সেই ধারা থেকে ঢাকাই ফিল্ম ক্রমশ উঠে দাঁড়াচ্ছে কিন্তু। যার সবশেষ উদাহরণ ‘দেবী’ হয়ে ‘যদি একদিন’। ওখানে জয়া, এখানে তাহসানের অ্যাক্টিভিটি তো অকল্পনীয়।
রাজ: অকল্পনীয় নয়, এটাই স্বাভাবিক। এটাই হওয়া উচিত। এখানে সততার বিষয় জড়িত। টাকা কিংবা খ্যাতির জন্য তাহসান সিনেমা করেননি। করেছেন গল্পের টানে, সিনেমাকে ভালোবেসে। কিন্তু এটাও সত্যি, আমাদের এখানে অসৎ অভিনেতার সংখ্যা অসংখ্য। এমনও ঘটনা ঘটেছে আমার সঙ্গে; কোনও এক নায়িকাকে বললাম, ‘তুমি যে ওই সিনেমাটা করছো, শুটিং কেমন হচ্ছে?’ এটা কৌতূহল থেকে আমরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করি, একে অপরের খোঁজ নেওয়ার জন্য। তো সেই নায়িকা নির্দ্বিধায় আমাকে বলে দিলো, ‘ধুর। কিছু হচ্ছে না! গল্প নাই, সংলাপ নাই। যা তা অবস্থা।’ সেই নায়িকাকে আমি বিস্ময় নিয়ে বললাম, ‘তাহলে কাজটা করছো কেন? করছোই যখন এভাবে বলছো কেন!’ তার জবাব পেলাম এভাবে, ‘টাকার জন্য করছি। আর কিছু না।’ছবির একটি দৃশ্যে তাহসান ও শ্রাবন্তীএই হচ্ছে আমাদের দেশের বেশিরভাগ অভিনেতা-অভিনেত্রীর অবস্থা। তারা টাকার জন্য কাজটা করে, বাঁচার জন্য নয়। এ কারণেই মরার পথে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। সেই বিবেচনায় বলবো, তাহসান, তাসকিন, শ্রাবন্তী, রাইসাসহ পুরো ‘যদি একদিন’ টিম যেভাবে আমাকে শুরু থেকে এখনও সরাসরি সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তারা প্রত্যেকে গল্পটিকে ভালোবেসে কাজটি করেছেন। টাকা কিংবা নাম কামানোর জন্য নয়। এই কালচারটা আমাদের ধরে রাখা দরকার।
ছবিটির ট্রেলার:


ট্রিবিউন: কিন্তু ছবির অর্ধেক চমক শ্রাবন্তী তো এখনও কলকাতায়! এটা চলমান প্রচারণায় ঘাটতি নয় কি?
রাজ: বিশ্বাস করবেন না, গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রাবন্তী কতটা ছটপট করছেন ঢাকায় আসার জন্য। হাতের কাজ বন্ধ করে ব্যাগ গুছিয়ে বসে আছেন তিনি। ১০ মিনিট পর পর মেসেজ পাঠাচ্ছেন। বলছেন, ‘আমাকে ছাড়াই তোমরা ঘুরে বেড়াচ্ছ। সব মজা শেষ করে ফেলছো!’

সত্যি বলতে ভিসা জটিলতায় পড়েছেন শ্রাবন্তী। চারজনের জমা দিয়েছিল। তিনজনের হয়েছে। তারটা আটকে গেছে। সেটা রিকভার হলো গতকাল (বুধবার)। এখন বিমানের টিকিট সংকটে ভুগছি আমরা। আশা করছি প্রচারণার শেষ চমক হিসেবে শ্রাবন্তী আমাদের মিছিলে ঠিকই মশাল হাতে দাঁড়াবেন। হতে পারে, কালই (শুক্রবার)। কারণ, ‘যদি একদিন’ টিমের কাছে পৌঁছানোর প্রচণ্ড চেষ্টা তার মধ্যে আছে। এটাই হচ্ছে একজন শিল্পীর সততা। আমরাও চেষ্টা করছি তাকে যত দ্রুত সম্ভব বিমানে তোলার।

শুটিংয়ে শ্রাবন্তীকে দৃশ্য বোঝাচ্ছেন রাজট্রিবিউন: আরেকটি বিষয়। ছবিটির গান ও ট্রেলার বেশ আগেই প্রকাশ করেছেন। প্রচুর হাততালিও পেয়েছেন। যদিও আপনার সব সিনেমার গানই জনপ্রিয়তা পায়। পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কেউ কেউ বলছেন, ছবিটির মাঠপর্যায়ের প্রচারণাটা খানিক বিলম্বে শুরু করেছেন।

রাজ: এটা আমাদের সংস্কৃতি। এটার মানে দোষ খোঁজা। ধরুন আমি একটা নতুন শার্ট পরেছি। একজন কাছে এসে বলবে, ‘ভাই শার্টটা খুবই সুন্দর! তবে রঙটা আরেকটু হলুদ হলে আরও ভালো লাগতো!’ এই হচ্ছে আমাদের কমন মেন্টালিটি। আমরা ছবির প্রচারণার পরিকল্পনা মুক্তির এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু করেছি। আমার মগজের হিসাবে এটাই উচিত। ১৫ দিন আগে ক্যাম্পেইন শুরু করবো। মাঝের শুক্রবারে যখন অন্য ছবি মুক্তি পাবে তখন আমারটা চাপা পড়ে যাবে না? সেই ভাবনা থেকে আমরা মুক্তির আগের সপ্তাহটি টার্গেট করেছি। আমাদের এই প্রচারণা চলবে মুক্তির পরে আরও টানা দুই সপ্তাহ, দেশজুড়ে।
ছবিটির একটি গান:

ট্রিবিউন: ছবির নায়ক তাহসান। গান ও নাটকে তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। এবার সিনেমায় তিনি। ছবিটির গান-ট্রেলার ও আপনাদের মন্তব্য থেকে যতটুকু আঁচ করা যায়, সেটি হলো এই গল্পটি মূলত ছোট্ট রাইসাকে কেন্দ্র করে। তাহলে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কি মাল্টিপ্লেক্স অথবা শহরকেন্দ্রিক বলা যায়?
রাজ: বুকে হাত দিয়ে বলছি, আমি সবার জন্য ছবিটি বানিয়েছি। আপনার সূত্র ধরেই বলি, ছবিটির গল্প যদি হয় ছোট্ট রাইসাকে ঘিরে, তো এমন বাচ্চা বাংলার কোন ঘরটাতে নাই? দেশের প্রতিটি বাচ্চার বাবা-মা-ভাই-বোন-স্বজনরা যদি ছবিটা দেখে, তাহলে তো এই ছবি ১০ বছরেও হল থেকে নামাতে পারবো না!
মূলত আমরা এখনও ম্যাসপিপলের ছবি বলতে নাচ-গান আর ফাইটের মধ্যে আটকে থাকছি। সারা দুনিয়া এখন চলছে কনটেন্টের ওপর ভিত্তি করে। আমার এই ছবির মূল নায়ক হলো গল্প। আমার টার্গেট দর্শক সমগ্র বাংলাদেশ, আপাতত। এটাকে কোণঠাসা করার সুযোগ নেই।

ছবিটির প্রচারণায় রাজ-তাহসানের মাইকিং
ট্রিবিউন:
 সেক্ষেত্রে শুরুর সপ্তাহে হলের সংখ্যা বেশ কম নয় কি? পাঁচটি মাল্টিপ্লেক্স আর ১৭টি প্রেক্ষাগৃহ। সিনেমা মুক্তির সময় হলের সংখ্যাও একটা বড় আওয়াজ।

রাজ: হল কমানো এখন বিজনেস পলিসি। শুরুতেই সংখ্যা বাড়িয়ে খরচ বেশি করে গর্বের কিছু নেই। কারণ, দিন শেষে মুনাফা করতে হবে। প্রযোজক বাঁচাতে হবে। গেল কয়েক বছর দেশের বেশিরভাগ সফল ছবির ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। আমরাও সেই পরিকল্পনাই করেছি। প্রথম সপ্তাহে রেসপন্স ভালো পেলে পর্যায়ক্রমে হলের সংখ্যা বাড়াতে থাকবো। শুরুতেই দেড়শ’ হল, পরের সপ্তাহে ১০টি! এটা ভুল তরিকা।

এফডিসিতে ছবির প্রচারণায় তাহসান-রাজট্রিবিউন: পাঠক-দর্শকদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতে চান…
রাজ: তারাই (পাঠক-দর্শক) এখন আমার শেষ আশ্রয়। অনেক কথাই বলছি, বলতে চাই। তবে সব কথার শেষ কথা একটাই- সবার জন্য ছবিটি বানিয়েছি। আমরা সবসময় অনেক কথা বলি, আমাদের হল নাই, ভালো সিনেমা হয় না, নায়ক-নায়িকার অভাব, অভিনয় পারে না ইত্যাদি। সব অভিযোগ মাথায় নিয়েই এই ছবিটা একটু সিনেমা হলে গিয়ে দেখুন। ভালো লাগলে অন্যদেরও বলুন। কারণ, আপনারা ছবিটি দেখলে সেই টাকাটা আমার প্রযোজক পাবেন। পরের ছবির জন্য সেই প্রযোজক ডাবল বাজেট বরাদ্দ রাখবেন।
এভাবেই আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আলোর পথে এগিয়ে যাবে।
সিনেমার আরেকটি গান:

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button