জাতীয়

প্রভোস্টের পদ থেকে অধ্যাপক মিজানের পদত্যাগ

ঢাকা , ০৮ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ছেলেকে মারধর করেছেন এবং তিনি নিজেও তাদের হাতে মর্যাদাহানির শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (৮ মার্চ) বিকালে ঢাবি উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বরাবর তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে দুপুরে ফজলুল হক হলের মসজিদে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মিজানুর রহমানের ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তার ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মিজানুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করে হল শাখা ছাত্রলীগ।

অধ্যাপক মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করাই অযৌক্তিক ছিল। হলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ছাত্রদের জন্য এতকিছু করার পরও তারা যখন আমার পদত্যাগ দাবি করে, তখন একজন শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা নিয়ে থাকাটা যৌক্তিক নয়। তাই আমি এই ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেই পদত্যাগ করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, ফজলুল হক মুসলিম হলের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মিজানুর রহমানের ছেলে। মসজিদে জায়নামাজ বিছানোর সময় অন্য এক শিক্ষার্থীর পায়ে পা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হন ওই শিক্ষার্থী। নামাজ শেষে মিজানুর রহামানের ছেলের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীসহ অন্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মিজানুর রহমানের ছেলেকে মারধর করেন তারা। হলের ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে ডাকসু নির্বাচনে হল সংসদের প্রার্থীরা অবস্থান নেন। তারা অন্য নেতাকর্মীদেরও জড়ো করেন। এরপর প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি তোলেন তারা।

ঘটনার খবর পেয়ে ফজলুল হক হলে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তারা গিয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত করেন।

সনজিত চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু অতি উৎসাহী সামান্য একটি ঘটনাকে এত বড় করেছে। আমরা খবর পেয়ে হলে যাই। সেখান থেকে ছাত্রদের সরিয়ে দিয়ে স্যারের সঙ্গে বেরিয়ে আসি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফজলুল হক হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আগে থেকেই হল প্রভোস্ট মিজানুর রহমানে সঙ্গে হল শাখা ছাত্রলীগের দূরত্ব তৈরি হয়। আজ একটা সুযোগ পেয়ে ছাত্রলীগ সেটাকে কাজে লাগিয়েছে।

সামান্য ঘটনাকে উস্কে দিয়ে যারা রাজনীতি করছেন, তাদের বিচার দাবি করেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা সামান্য ঘটনা নিয়ে এভাবে রাজনীতি করছে, তারা কিন্তু  ঘটনাস্থলে ছিল না। পরবর্তীতে তাদের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা যে ছাত্রদের উস্কে দিয়েছে, ওখানে যারা ছিল তাদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন। ছাত্র নাম নিয়ে যারা এ কাজটি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। হলের দায়িত্বে থাকার সময় সাধারণ ছাত্রদের জন্য করা আমার কাজগুলোই হয়তো কাল হয়েছে। যা হয়তো কোনও পক্ষের পছন্দ হয়নি।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button