ক্যাম্পাস

রাকসু নির্বাচন: ইমেজ সংকটে ছাত্রলীগ

ঢাকা , ০৯ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

প্রতিষ্ঠার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন হয়েছে মোট ১৬ বার। দীর্ঘ ২৯ বছর পর নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোর শুরু হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে প্যানেলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশেষ করে ছাত্রলীগ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে। থেমে নেই বাম সংগঠনগুলো।

এদিকে পূর্বে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একটি নির্বাচনেও হারেনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

তবে বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মারধর, ক্যাম্পাসে ছিনতাই, আবাসিক হলে সিট বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাদাবিসহ নেতাদের বেশ কিছু কার্যকলাপে শিক্ষার্থীদের থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সংগঠনটির নেতাদের। যা রাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদের জয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনগুলো সঙ্গে। যেখানে সর্বাধিক পদ জয়ে এগিয়ে ছিল ছাত্রলীগ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাম জোটের ছাত্র ইউনিয়ন।

তবে এবার আগের চিত্র পাল্টে যেতে পারে এমন ধারণা করছেন অনেকেই।

সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। তখন এই সংসদের নাম ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (রাসু)।

১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ রাকসু নামে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৬ বার নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদের জয়ে এগিয়ে আছে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিরা। এই ছাত্র সংগঠনটির হয়ে মোট ১৪ প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এহসান মাহফুজ জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হয়ে মোট সাতজন ভিপি ও সাতজন জিএসসহ মোট ১৪ প্রার্থী জয়লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৯৬৩-৬৪ মেয়াদে সৈয়দ মাজহারুল হক ভিপি ও আবদুর রওফ জিএস।

এরপর ১৯৬৫-৬৬ মেয়াদে আবু সাইদ ভিপি ও সরদার আমজাদ হোসেন জিএস পদে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৭-৬৮ মেয়াদে এ এফ এম জামিরুল ইসলাম ভিপি ও আব্দুর রহমান জিএস পদে নির্বাচিত হন।

১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে আবদুর রহমান ভিপি এবং জালাল উদ্দিন সেলিম জিএস পদে নির্বাচিত হন।

এদিকে ১৯৬৯-৭০ মেয়াদে মীর শওকত আলী ও আবদুস সামাদ। ৭৩-৭৪ মেয়াদে নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু ও শামসুল হক টুকু। ৭৪-৭৫ মেয়াদে ভিপি পদে ফজলুল হক পটল নির্বাচিত হন।

১৯৮০-৮১ মেয়াদে জিএস পদে আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, রাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে প্রাথী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পদ-পদবী গুরুত্ব না দিয়ে ব্যক্তির ইমেজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে মূল্যায়ণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ দূরত্ব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কিনা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এখনও আছে। আর শাখা ছাত্রলীগে ক্লিন ইমেজের অনেক নেতা আছেন তাদের প্রত্যেকেই প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আমরা আশা করি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যাদেরকে মনোনয়ন দেবেন তারা জয় নিয়েই ফিরবেন।

এদিকে ভিপি ও জিএস পদে জয়লাভের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র ইউনিয়নের হয়ে রাকসুর নির্বাচনে ৮ প্রার্থী ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে সর্বপ্রথম মনিরুজ্জামান মিয়া ভিপি ও আবদুর রাজ্জাক খান জিএস পদে জয়লাভ করেন।

পরবর্তী ১৯৫৭-৫৮ মেয়াদে ছাত্র ইউনিয়নের আবুল কালাম চৌধুরী ও আবদুর রাজ্জাক খান, ১৯৬৪-৬৫ মেয়াদে আব্দুর রাজ্জাক ও বায়েজীদ আহমেদ এবং ১৯৭২-৭৩ মেয়াদে হায়দার আলী ও আহম্মদ হোসেন নির্বাচিত হন।

তবে তথ্য বলছে, ১৯৭২-৭৩ সালের পর কোনো নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদের একটিতেও জয়লাভ করতে পারেনি এই ছাত্র সংগঠনটির প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে বামপন্থী দল হিসেবে ছাত্রমৈত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের হয়ে মোট ৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে ছাত্র মৈত্রী থেকে দুজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা ১৯৮০-৮১ সেশনে ভিপি এবং ৮৮-৮৯ সেশনে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রাগিব আহসান মুন্না ভিপি ছিলেন।

জাসদ ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন প্রতিনিধি, ১৯৭৪-৭৫ মেয়াদে রফিকুল ইসলাম ও ১৯৮৮-৯০ পর্যন্ত রুহুল কুদ্দুস বাবু জিএস ছিলেন।

এদিকে জাতীয়বাদী ছাত্রদল একবার ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে তিনি ভিপি পদে নির্বাচিত হন। এর পর আর রাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের বেশি পদে জয়ী হওয়ার বিষয়টি আসন্ন নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করবে কিনা জানতে চাইলে শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল বলেন, ২৮ বছরে অনেক কিছুই বদলেছে। শিক্ষার্থীরা অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছে।

তারা কোনোভাবেই প্রভাবিত হবেন না যোগ্য প্রার্থীদেরকে ভোট দিলে তারা এগিয়ে থাকবেন বলে দাবি করেন তিনি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button