খেলাধুলা

সাফের সেমিফাইনালে চোখ রেখে নেপাল যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা

ঢাকা , ০৯ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গেল আসরে ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল। ১২ মার্চ থেকে নেপালের বিরাটনগরে শুরু হতে যাচ্ছে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম আসর। যেখানে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান ও স্বাগতিক নেপাল।

আগের আসরের ফাইনালিস্টরা এবার অবশ্য সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়েই নেপাল যাচ্ছে। তার অবশ্য কারণও রয়েছে। বাংলাদেশ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। তবে ২০ জনের দলে ১৪ জনেরই সাফের গেল আসরে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বয়সভিত্তিক সাফ ও এএফসির বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং অলিম্পিকে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তারপরও বাংলাদেশ কেন ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখতে পারছে না? কারণ বয়স। বাংলাদেশের মেয়েদের বয়স অনূর্ধ্ব-১৬ এর মধ্যে। অন্যদিকে ভারত ও নেপালের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী খেলোয়াড়ও রয়েছে। যাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক সমৃদ্ধ। তাদের সঙ্গে ময়দানি লড়াইয়ে হয়তো ১৬ বছর বয়সী মৌসুমী-তহুরারা পেরে উঠবে না।

কিন্তু মারিয়া-মৌসুমী-কৃষ্ণাদের মধ্যে যে স্পিরিট রয়েছে সেটার উপরই ভরসা করছেন বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন।

নেপাল যাওয়ার আগে আজ শনিবার বাফুফে ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টটি ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেটাকে ধরেই আমরা অনেকদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আমরা বয়সভিত্তিক সাফ খেলেছি, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্ব খেলেছি, অলিম্পিকের বাছাইপর্ব খেলেছি, তাজিকিস্তানে খেলেছি। তবে এই টুর্নামেন্টে নেপাল ও ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তাদের দলের খেলোয়াড়দের বয়স এবং অভিজ্ঞতা বেশি। ভারতের দলে এমনও ফুটবলার রয়েছেন যার চেয়ে আমাদের মৌসুমী ২০ বছরের ছোট! পার্থক্যটা এখানেই। তবে আমাদের মেয়েদের মধ্যে যে স্পিরিট ও কৌশলগত সামর্থ রয়েছে আশা করছি সেটা কাজে লাগিয়ে আমরা সেমিফাইনাল খেলতে পারব।’

‘আমাদের মেয়েরাও অভিজ্ঞ হচ্ছে। এই দলের ১৪ জন সাফের আগের আসরে খেলেছে। যদিও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ১০ জন রয়েছে। তবে গেল দুই বছরে আমাদের মেয়েরা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। অলিম্পিকের বাছাইপর্বে ক্লান্তির কারণে প্রথম দুই ম্যাচে আমরা মায়ানমার ও ভারতের কাছে হার মেনেছি। কিন্তু পরের ম্যাচে কিন্তু আমরা নেপালের মতো দলের সঙ্গে ড্র করেছি। আমাদের মেয়েরা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষেও লড়াই করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। এবারের আসরে আমাদের প্রথম টার্গেট সেমিফাইনাল। এরপর দেখা যাক কতদূর যেতে পারি।’ যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল এবং স্ট্রাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি মনে করছেন বাংলাদেশের নেতিবাচক দিক একটাই, সবার বয়স কম। তবে এই মেয়েরাই এক সময় বড় বড় দলের বিপক্ষে ভালো করবে বয়স বাড়লে। সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে বাংলাদেশকে। তিনিও সাফে ভালো পারফরম্যান্স করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রোববার সকাল সাড়ে দশটায় নেপালের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল দেশ ছাড়বে। সাফে ১৪ মার্চ প্রথম ম্যাচে বিকেল ৩টায় ভুটানের মুখোমুখি হবে সাবিনা-কৃষ্ণারা। ১৬ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। সেমিফাইনালে যেতে হলে অন্তত একটি ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে। বি গ্রুপে রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।

১২ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত হবে গ্রুপ পর্বের খেলা। ২০ মার্চ সকাল ও বিকেলে হবে দুটি সেমিফাইনাল। আর ২২ মার্চ হবে ফাইনাল।

আগের চার আসরের চারটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতের মেয়েরা। এবাও তারা ফেভারিট। তাদের সঙ্গে ফেভারিট হিসেবে আছে আয়োজক নেপাল। এবারের আসরের আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এরপর নেপাল হয় আয়োজক। এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দল অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা নাম প্রত্যাহার করেছে।

সাফে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল :
সাবিনা খাতুন (অধিনায়ক), মাহমুদা আক্তার, রূপনা চাকমা, ইয়াসমিন আক্তার, মাসুরা পারভিন, আঁখি খাতুন,  নার্গিস খাতুন, নিফুলা ইয়াসমিন নিলা, শামসুন্নাহার, শাসুন্নাহার জুনিয়র, শিউলি আজিম, মিসরাত জাহান মৌসুমী, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, ইসরাত জাহান রত্না, সানজিদা আক্তার, মার্জিয়া, সিরাত জাহান স্বপ্না, শ্রীমতি কৃষ্ণা রাণী সরকার ও তহুরা খাতুন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button