বিনোদন

চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে তাসকিন

ঢাকা , ১৪ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

তাসকিন রহমান। থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ঢাকা অ্যাটাক ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা হয়ে যান। এরপর থেকেই ঢাকার চলচ্চিত্রে নিয়মিত হয়ে যান তিনি। অভিনয়ের নেশায় পড়ে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অপরাধ তত্ত্বাবধায়কবিষয়ক বিশ্লেষকের (ক্রাইম মনিটরিং অ্যানালিস্ট) চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ৮ মার্চ মুক্তি পায় তাঁর নতুন ছবি যদি একদিন। বয়ফ্রেন্ড নামে তাঁর আরেকটি ছবি শিগগিরই মুক্তি পাবে।

‘যদি একদিন’

গত শুক্রবার দেশের ২১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ছবি যদি একদিন। ছবিতে একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে চলছে আলাপ–আলোচনা। ছবিতে তাহসান, শ্রাবন্তী কিংবা ছোট্ট রাইসার পাশাপাশি তাসকিনের চরিত্রটি এগিয়ে আছে অনেকের বিবেচনায়। অনেকের কাছ থেকে আবার ছবিতে তাসকিনের চরিত্র নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও জানা গেছে। এ ব্যাপারে তাসকিনের মন্তব্য কী, জানতে চাইলে একটু নড়েচড়ে বসেন তিনি। বলেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক ছবি দেখার পর অনেকেই আমাকে একটা ফরম্যাটে ফেলে রেখেছেন। কিন্তু আমি যে ইমোশনাল চরিত্রেও অভিনয় করে করতে পারি, এই ছবিতে সেই প্রশংসা অনেকের কাছ থেকেই পেয়েছি।’

তাসকিন রহমান। ছবি: খালেদ সরকারতাসকিন রহমান।

নায়ক তাসকিন, খলনায়ক তাসকিন
ঢাকা অ্যাটাক ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে দেখা গেছে তাসকিনকে। সে সময় এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, আর খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করবেন না। কিন্তু এর কিছুদিন পর সে কথা পাল্টে ফেলে তাসকিন কলকাতার নায়ক জিতের সঙ্গে সুলতান: দ্য সেভিয়্যর ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। বাংলাদেশ ও কলকাতায় ছবিটি মুক্তির পর তাঁকে নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। এরপর খলনায়ক থেকে বেরিয়ে এসে যদি একদিন ও বয়ফ্রেন্ড ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েন তিনি।

ঢাকা-সিডনি, সিডনি-ঢাকা
অস্ট্রেলিয়ায় একটি সরকারি দপ্তরে অপরাধ তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবে চাকরি করতেন তাসকিন। বেশ গোছানো আর পরিপূর্ণ ছিল তাঁর প্রবাসী জীবনটা। কিন্তু ঢাকা অ্যাটাক ছবি মুক্তির পর থেকে তাঁর সেই জীবনযাপনে ছন্দপতন ঘটে। প্রথম ছবি মুক্তির পরপরই আরও চারটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। এর মধ্যে কলকাতার সুলতান: দ্য সেভিয়্যর আর বাংলাদেশের যদি একদিন মুক্তি পেয়েছে। চলচ্চিত্রে শুটিং করতে বছরের তিন-চারবার করে সিডনি থেকে ঢাকায় আসা–যাওয়া করতে হয় তাঁকে। প্রতিবারই অফিস থেকে ১৫ দিন থেকে ২০ দিন টানা ছুটি নিতে হয়। এতে কোনো দিকেই নিজের পুরো সময়টা দিতে পারছিলেন না তাসকিন। তিনি বলেন, ‘এত দূর থেকে ঘন ঘন আসা–যাওয়া একটা বড় খরচেরও ব্যাপার। এত ঘন ঘন ছুটি নেওয়াও সম্ভব নয়। গত এক বছর অফিস ম্যানেজ করে শুটিং করতে হয়েছে আমাকে। খুব কঠিন ছিল দুই দিক সামাল দেওয়া।’

চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে
চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন তাসকিন। এখন অস্ট্রেলিয়ার ওই সরকারি দপ্তরের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। বলতে গেলে ‘ফুল টাইম’ অভিনেতা আর অবসরে চাকরিজীবী। তাসকিন বলেন, ‘এখন অভিনয়ই আমার মূল কাজ। অভিনয়ের ফাঁকে চুক্তিতে চাকরি করব। বাংলাদেশে এসে অভিনয় করে বছরে তিন মাস সময় পেলেই ওখানে কাজ করতে পারব।’
কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যে দুর্দিন, তাতে চাকরি ছেড়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়াটা কি তাসকিনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়নি? ভয় লাগেনি? ‘এটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আমার মনে হয়, সিনেমার দুর্দিন কেটে যাবে। এখন নতুন নতুন অনেক নির্মাতাই আসছেন। বছরে তাঁদের অল্প সংখ্যক সিনেমা তৈরি হলেও দর্শক এই সিনেমাগুলো গ্রহণ করছেন। এটাই আশা জাগাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী পাঁচ বছর নিয়মিত সিনেমাতেই সময় দেব।’

যদি একদিন ছবিতে তাসকিন ও শ্রাবন্তীযদি একদিন ছবিতে তাসকিন ও শ্রাবন্তী

অতঃপর ‘মিশন এক্সট্রিম’
ঢাকা অ্যাটাক ছবির পর শুধু পরিচালক ছাড়া পুরো টিম নিয়েই মিশন এক্সট্রিম তৈরি হচ্ছে। এবার ছবিটি পরিচালনা করছেন ফয়সাল আহমেদ। ২০ মার্চ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা আছে। টানা এক মাস শুটিং হবে। এই ছবিতে অভিনয় করবেন তাসকিন রহমান। যথারীতি এবারও খলনায়কের চরিত্রে। তাসকিন জানান, তাঁর এবারের চরিত্রটির পরিসর বড়, অনেক বেশি রহস্যঘেরা। তাসকিন বললেন, বেশ কিছুদিন ধরে চরিত্রটির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। কাজ করছেন নিজের লুক, অভিনয়ের ধরন নিয়ে।
সর্বগুণসম্পন্ন
এখন তাসকিন অভিনেতা। তবে ছবি আঁকা, গান লেখা, সুর ও গান গাওয়াও তাঁর ‘গুণ’–এর তালিকায় আছে। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়াতে ‘সিয়ারসি’ নামে একটি গানের দলও গড়েছিলেন। সেখানে ২০০৮ সাল পর্যন্ত লিড ভোকাল (মূল কণ্ঠশিল্পী) হিসেবে গাইতেন। তাসকিন বলেন, ‘টানা তিন বছর দলে ভোকাল হিসেবে গেয়েছি। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে শো করেছি। এখন অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় গানে সময় দেওয়া হচ্ছে না।’
ছবি আঁকাতেও পিছিয়ে নেই এই অভিনেতা। এখনো অবসরে নিয়মিত ছবি আঁকেন। এর আগে সিডনিতে নিজের আঁকা জলরঙের ছবি নিয়ে তিনটি একক প্রদর্শনী করেছেন তাসকিন। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের কারণে গানে ছেদ পড়লেও ছবি আঁকা চালিয়ে যাচ্ছি। এটা থামাতে পারি না।’

সিয়ারসি ব্যান্ডের সদস্যদের সঙ্গে তাসকিন (ডানে)সিয়ারসি ব্যান্ডের সদস্যদের সঙ্গে তাসকিন (ডানে)তাসকিনের কিছু অজানা 
* গান আর অভিনয়ের জন্য ছেলেবেলায় নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগীতায় পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
* বাংলাদেশ টেলিভিশনের বেশ কয়েকটি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন।
* ১৯৯৫ সালে হৃদয় আমার ছবিতে আমিন খানের ছোটবেলার চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।
* ২০০২ সালে দেশের বাইরে চলে যান পড়াশোনা করতে। সেখানে স্নাতক করেন ফরেনসিক সায়েন্সে। এরপর ভর্তি হন টিএএফই এনএসডব্লিউ–এ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয় স্নাতকোত্তর করতে। এরপর ডিপ্লোমার জন্য তাসকিন ভর্তি হন বিজনেস অ্যাডমিন বিষয়ে চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটিতে।
* সেখানে পড়াশোনার ফাঁকে তাসকিন একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন। নাম ‘সিয়ারসি’। ব্যান্ডের মূল কণ্ঠশিল্পী ছিলেন তিনি।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button