সারাদেশ

চট্টগ্রামে সক্রিয় অভিনব প্রতারকচক্র, টার্গেটে স্কুল শিক্ষার্থীরা

ঢাকা , ১৫ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

চট্টগ্রাম সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র অর্ণব বণিক রুদ্র (১৪)। গত ৭ মার্চ তার ব্যবসায়ী বাবা মধু চন্দ্র বণিককে ফোনে কেউ একজন জানায়, অর্ণব স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত।

তাকে হাসপাতাল নেয়া হচ্ছে, ছেলেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত বিকাশে টাকা পাঠান। এমন খবরে আঁতকে ওঠেন মধু চন্দ্র। চারদিকে খোঁজখবর, হইচইয়ের পর তিনি জানতে পারেন- না, ছেলে স্কুলেই আছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর সার্কেলের কর কর্মকর্তা একেএম সালাউদ্দীনের মোবাইলে ফোন করে কেউ একজন বলে, ‘আপনার ছেলে আশরাফুল মাকবুল সাকি কি স্কুলে? হ্যাঁ বলার পর ওপাশ থেকে জবাব আসে, নিন ছেলের সঙ্গে কথা বলুন।

হুবহু আমার ছেলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল মাকবুল সাকিরের (১৪) কণ্ঠে বলা হয়- ‘আব্বু আমাকে আটকে রেখেছে, নিয়ে যাও।’ কথা শেষ না হতেই আরেকজন মোবাইল নিয়ে সালাউদ্দীনকে বলে- ‘আপনি টাকা জোগাড় করেন। আপনার ছেলে আমাদের হেফাজতে আছে।’ এর পর ওই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। এমন খবর পেয়ে নানা জায়গায় যোগাযোগ-ছোটাছুটি। শেষ পর্যন্ত জানতে পারি- না, ছেলে স্কুলেই আছে। গত বেশ কিছু দিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এভাবেই অভিনব কায়দায় সহজ-সরল অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

কথা হয় মধু চন্দ্র বণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি থানাকে জানাই। পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায়, তাকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে ফোন করা হয়েছিল। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। থামেনি প্রতারকদের তৎপরতাও। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কোতোয়ালি থানার এসআই সজল দাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘স্কুলছাত্র-ছাত্রীদের অপহরণ, নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে চক্রটি। গত এক মাসে এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আরও একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআই সজল দাশ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রাব্বি নামের চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলের এক শিক্ষার্থীকে অপরিচিত এক লোক জিজ্ঞাসা করে- তুমি রহিমের ছেলে না? ওই ছেলে বলে, না, আমি আবদুল কাইয়ুমের ছেলে।

ওই লোকটি তখন বলে, আচ্ছা তুমি কাইয়ুমের ছেলে। তোমার বাবা আমার বন্ধু। তোমার বাবা কেমন আছে, তোমার বাবার মোবাইল নম্বরটি বল। তখন রাব্বি বাবার নম্বরে ফোন দিয়ে লোকটি বলে, আপনার ছেলে তো স্কুলে আসছে। তার সঙ্গে কথা বলেন। তখন রাব্বি বলে, আব্বু আংকেলের সঙ্গে আমি…। তখনই ফোনটি কেড়ে নিয়ে লোকটি বলে টাকা না দিলে কখনও বাসায় ফিরবে না আপনার ছেলে।

কথা হয় একেএম সালাউদ্দীনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ছেলেকে আটকে রাখার খবর পেয়ে আমি ভয় পেয়ে যাই। ছেলের মোবাইল ফোনটিও তখন বন্ধ পাই। দ্রুত অফিস থেকে বের হয়ে বন্ধুদের বিষয়টি অবহিত করি। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে জানালে তার পরামর্শে কোতোয়ালি থানাকে অবহিত করি। দ্রুত চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছুটে যাই এবং দেখি ছেলে আমার স্কুলেই আছে।

নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকার বিষ্ণু অপটিকসের মালিক সুমন বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলে ত্রিদেব বিশ্বাস (১১) সিঅ্যান্ডবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। বুধবার ছেলেকে আটকে রাখার কথা বলে কেউ একজন ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে। বিষয়টি কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পরে স্কুলে গিয়ে ছেলেকে দেখতে পাই। বুঝতে পারি প্রতারিত হচ্ছিলাম।’

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার মিথ্যা খবর দেয়াসহ নানা কৌশলে অভিভাবকদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চক্রকে ধরার চেষ্টা করছি। চক্রের সদস্যরা খুব ধূর্ত হওয়ায় এখনও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button