টাইগারদের সঙ্গে কেন নিরাপত্তা দল ছিল না, জানালেন বিসিবি সিইও

0
13

ঢাকা , ১৬ মার্চ , (ডেইলি টাইমস২৪):

বিদেশি কোনো দল যখন বাংলাদেশ সফরে আসে, তখন নিরাপত্তার চাদরে তাদের ঢেকে দেয়া হয়। মাঝেমধ্যে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে হলেও তাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়, যেন কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের জন্য এমন নিরাপত্তা ছিল না। আরেকটু হলে ঘটে যেতে পারতো বড় বিপদ।

ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে ৪৯ জন মুসুল্লি। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। ৫০ গজ দূর থেকে ভয়াবহ হামলার দৃশ্য দেখে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন তারা।

এমন একটি ঘটনাকে কিভাবে দেখছে বিসিবি? বোর্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনেক আগে থেকেই বলে আসছে যে, বিভিন্ন সময় অস্ট্রেলিয়া- ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে নিরাপত্তা দুশ্চিন্তা নিয়ে কথা বলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সময়।

‘আমরা বলে এসেছি, পৃথিবীর কোনো জায়গায় নিরাপদ নয়। সেটাই দেখা গেলো যে, নিউজিল্যান্ডের মতো একটা দেশ, যেখানে কোনোদিন এ রকম কিছু ঘটেনি, সেখানেই এ রকম ঘটনা ঘটলো। সুতরাং এটা বিস্ময়কর তো অবশ্যই, একই সাথে দুঃখজনক, এতগুলো প্রাণহানি ঘটেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আমদের জাতীয় ক্রিকেট দল সুস্থভাবে দেশে ফিরছে, তারা বিমানে উঠে গেছেন।’

নিউজিল্যান্ডে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। তাই বলে যে ঘটবে না, এমন নিশ্চয়তা তো দেয়া ঠিক হয়নি। বিদেশি দল বাংলাদেশে আসার আগে নিরাপত্তা নিয়ে নানা কিছু করে, আমরা কী করেছিলাম?

এমন প্রশ্নে বিসিবি সিইওর উত্তর, ‘যখন কোনো দল বিদেশে যায়, বিদেশে পৌঁছে, তখন কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আয়োজক ক্রিকেট বোর্ডের। অন্যান্য বিষয়ও ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। এটাই প্রচলিত নিয়ম। বছরের পর বছর, যুগ যুগ ধরে এটাই হয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বড় দল কিন্তু ভারত। তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সফর করে। কিন্তু তাদের সাথে সিকিউরিটি ম্যানেজার বা সিকিউরিটি টিম যাওয়া, এ ধরনের প্রচলিত কোনো বিধান কিন্তু ছিলো না।’

কিন্তু দল যখন চলাফেরা করে একটা সিকিউরিটি টিম তো থাকা উচিত। সেটা কেন ছিল না? নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে দৃশ্যমান কোনো সিকিউরিটি ব্যবস্থা আমরা দেখিনি। আমরা জানি না তাদের সিকিউরিটি সিস্টেমটা কী। কিন্তু যখন দুই দেশের সিরিজ বিষয়ক সমঝোতা চুক্তি হয়, তখন কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু একেকটা দেশের নিরাপত্তার মান নির্ধারণ করা হয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে।’