সারাদেশ

সোনাগাজীতে আবারও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

ঢাকা , ১১ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফির পর এবার এক ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে যাওয়ায় গায়ে আগুন লাগার অবস্থা থেকে বেঁচে গেছে ওই ছাত্র। তবে তার নাকে, মুখে কেরোসিন প্রবেশ করায় তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার শিকার ওই ছাত্রের নাম আবু সালেহ মিম।

সোনাগাজীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে মিম ঢাকার একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। গতকাল বুধবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে আটটার দিকে পৌরসভার চর গণেশ এলাকায় মিমের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে আবু সালেহ মিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার শরীরের পোশাকে কেরোসিন তেল ঢালা ছিলো। দুর্বৃত্তরা তাদের দেখে পালিয়ে যায়। কিন্তু দুর্বৃত্তরা মিমের নাকে-মুখে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছিলো। যা তার পেটে ও ফুসফুসে চলে যায়। মিমকে অচেতন অবস্থায় বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আরমান বিন আব্দুল্লাহ মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘কেরোসিন একটি মারাত্মক দাহ্য পদার্থ। শরীরের ভেতরে গেলে যার প্রভাব মারাত্মক। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যে মিমের শরীরে পড়তে শুরু করেছে। আমাদের কাছে আনার পর তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। পরে ফেনী সদর হাসপাতালের আরএমওর সঙ্গে আমি মোবাইলে কথা বলেছি, তিনি জানিয়েছেন মিমের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। তাই দেরি না করে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য মিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ বলেন, ‘ছেলেটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। আমরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। ১৮ থেকে ২৪ ঘন্টা অবজারভেশনের পর বলা যাবে তার চিকিৎসায় কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সোনাগাজী থানার ওসি তদন্ত কামাল হোসেন বলেন, ‘মিমের বাড়ির দরোজায় তাকে হাত-পা বেঁধে মিমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছিলো কয়েকজন। পরিবারের সদস্যরা তাদের চিনতে পারেনি। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৩। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে কে বা কারা এবং কেন মিমকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলো।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button