বর্ষবরণে নতুন পোশাক

0
26

ঢাকা , ১৩ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

বাংলা বর্ষবরণে নতুন পোশাকের চল বহুকাল আগে থেকে। বাংলা সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় এই উৎসবে দেশি পোশাকের কদরই বেশি। সে সুবাদে দেশি পোশাকের বুটিক হাউসগুলো এখন জমজমাট। ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়েছে। এসব পোশাকে ঠাঁই পেয়েছে নানা রং, নকশা এবং বৈশাখী মোটিফ। বর্ষবরণে নতুন পোশাক নিয়ে খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউসগুলোর বৈশাখ সংগ্রহ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

রঙ বাংলাদেশ

দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রতিনিধি রঙ বাংলাদেশ বৈশাখী পোশাক দিয়ে তাদের বুটিক হাউসগুলো সাজিয়েছে। বিষয়ভিত্তিক ফ্যাশন রঙ বাংলাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এবারের অভিযাত্রায় সৃজনের প্র্রেরণা হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে আলাম (বস্তুত এটা চাকমা সম্প্রদায়ের বয়ন অভিধান), কাইয়ুম চৌধুরীর রেখাচিত্র, নকশিকাঁথা।

রঙ বাংলাদেশ বরাবরই বাংলার কথা বলে। বাঙালির কথা বলে। বাংলাদেশের পোশাক সংস্কৃতিকে সচেতনভাবে বিবেচনায় রেখেই রঙ বাংলাদেশ তাদের সংগ্রহ সাজিয়ে থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং এই সময়, প্রকৃতির অবস্থা, পারিপার্শ¦, আবহাওয়াও পোশাকের উপকরণ নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস বলেন, আমরা কাজ করি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে। আমরা একটা ব্র্যান্ড হলেও কোয়ালিটির দিক দিয়ে এগিয়ে আছি। রঙ বাংলাদেশের একটি ডিজাইন দল রয়েছে। তারা বৈশাখের সংগ্রহে মানুষের চাহিদা ও আরামদায়ক পোশাকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।’

সৌমিক দাস জানান, রঙ বাংলাদেশের বৈশাখী পোশাকের সংগ্রহে এই সময়, প্রকৃতির অবস্থা, পারিপার্শ্ব, আবহাওয়াও পোশাকের উপকরণ নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এবার তাদের পোশাকে গুরুত্ব পেয়েছে লাল, মেরুন, অফ হোয়াইট, সাদা, নীল, কমলা এবং মেজেন্টা। এসব রঙে তৈরি পোশাকে সুতি, লিলেন, তাঁত, স্লাব, মসলিন, হাফসিল্ক, ফাইনকটন, এন্ডিকটন, এন্ডিসিল্ক, ভয়েল ব্যবহৃত হয়েছে।

রঙ বাংলাদেশের বৈশাখে সংগ্রহে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, স্কার্ট, টপস সেট, প্লাজো, আনস্টিচ, ওড়না, ব্লাউজ পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, কাতুয়া, টি-শার্ট, পায়জামা, গেঞ্জি, ধুতি, উত্তরীয়। এছাড়াও আছে ছোটদের পোশাক। রয়েছে গয়না ও মেয়েদের ব্যাগ। উপহার সামগ্রী হিসাবে রয়েছে নানা ডিজাইনের মগ।

সেইলর

বিভিন্ন উৎসব বা ঋতু অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে সর্বশেষ ফ্যাশন ট্রেন্ডে পরিচিতি পেয়েছে বুটিকস হাউস সেইলর। অভিজ্ঞ ডিজাইনারদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পোশাকের ডিজাইন, ফিটিংস, ক্রেতা সেবা দিয়ে ফ্যাশন সচেতনদের মধ্যে সেইলর ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একঝাঁক পোশাক নিয়ে বৈশাখী সাজে সেজেছে। এছাড়াও আছে গ্রীষ্মের কালেকশন, অ্যাথনিক, ট্রেডিশনাল এবং ক্যাজুয়াল থিমে তৈরি পোশাক।

সেইলরের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেজাউল কবির জানান, সেইলর তারুণ্যের ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম। তাই তারুণ্যের জন্য সর্বশেষ ফ্যাশন ট্রেন্ড পোশাকের ক্যানভাসে তুলে ধরার কাজটাই করছে ব্র্যান্ডটি। ব্র্যান্ড হিসাবে এর অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রেতাদের জন্য ফ্যাশনেবল সুন্দর পণ্য দিয়ে তাদেরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।

বৈশাখের পোশাকে শতভাগ বাঙালিআনার থিম, মোটিফ, নকশা দিয়ে ডিজাইন এনেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইলর।

সৈইলরের পাশাকের প্যাটার্ন ও কাট বৈচিত্র্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে এমব্রয়ডারি এবং ডিজিটাল প্রিন্টেড ভ্যালু এডিশনসহ বিভিন্ন ছাপচিত্র। সেইলরে বৈশাখী পোশাকগুলোর মোটিফ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে চৈত্র সংক্রান্তির রঙের ছটা, পাখির অবয়ব এবং ফুল ও প্রকৃতির নানা সৌন্দর্য। শতভাগ সুতি কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকে থাকছে রঙের উজ্জ্বলতা। পাশাপাশি নতুন বৈশাখী পোশাক থাকবে শিশু এবং বড়দের জন্যও। সেইলরের বর্ষবরণের পোশাকের সংগ্রহে নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন ও নকশার পোশাক রয়েছে।

গ্রামীণ ইউনিক্লো

বাঙালির প্রাণের বৈশাখকে ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো এবারও গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য বৈচিত্র্যময় পোশাক এনেছে গ্রামীণ ইউনিক্লো। বৈশাখে গ্রামীণ ইউনিক্লোতে রয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি ও মেয়েদের জন্য কামিজ। পোশাকের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে যে ট্রেন্ড চলছে সেগুলোকে মাথায় রেখে উৎসবকেন্দ্রিক আল্পনা বা ডিজাইনের সমন্বয় করা হয়েছে। আর যেহেতু আবহাওয়া গরম তাই পোশাক তৈরিতে শতভাগ কটন ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও লাইট ওয়েট এবং রঙের বিষয়টি চিন্তা করা হয়েছে। যাতে ইউনিক্লোর পোশাক পরে স্বস্তি পাওয়া যায়।

গ্রামীণ ইউনিক্লোর প্রধান ডিজাইনার বাবু আরিফ বলেন, ‘উৎসবকেন্দ্রিক পোশাক তৈরির সময় দেশীয় ডিজাইনের কথা চিন্তা করা হয়। তবে এর বাইরেও পোলো টি-শার্ট, মেয়েদের জন্য টপস তৈরির সময় দেশীয় ছাড়াও বিদেশি ডিজাইনের কথা চিন্তা করা হয়। গ্রামীণ ইউনিক্লোতে পাঞ্জাবি ছাড়াও পোলো টি-শার্ট, শার্ট, মোজা, মেয়েদের জন্য থ্রিপিচ, কামিজ, টি-শার্ট, টপস, সমঋতুতে পরা যায় এমন শার্টের মতো এক ধরনের কটি পাওয়া যায়।

বৈশাখ উপলক্ষে গ্রামীণ ইউনিক্লোর সব পাঞ্জাবির দাম ১৪৯০ টাকা। আর ঈদের সময় পাঞ্জাবির দাম রাখা হয় ১৯৯০ টাকা। শার্ট ও মেয়েদের কামিজের ক্ষেত্রে তিনটি ক্যাটাগরিতে দাম নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ৯৯০ টাকা। মধ্যম পর্যায়ে ১৪৯০ টাকা। আর ফরমাল শার্ট ১৮৯০ টাকা। কামিজের ক্ষেত্রেও সর্বনিম্ন ১৬৯০ টাকা। মধ্যম পর্যায়ে ১৯৯০ টাকা। সর্বোচ্চ ২৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবিয়ানা

বাংলাদেশের মানসম্মত ফ্যাশন হাউসগুলোর অন্যতম ‘বিবিয়ানা’। এবার বৈশাখে ‘বাঙালির আলপনা’ মোটিভ নিয়ে করছে ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানা। আলপনা এক ধরনের লোকশিল্প এবং বলা যায় মানুষের সহজাত অভিব্যক্তি। এতে সমাজের অতীত অভিজ্ঞতা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি একই সঙ্গে ফুটে ওঠে বর্তমানের অস্তিত্ব।

বাংলার মেলার প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিপি খন্দকার বলেন, ‘বিবিয়ানা বরাবরই দেশজ ঐতিহ্যের চর্চা তাদের কালেকশনে ফুটিয়ে তোলে। এবারের বৈশাখ আয়োজনেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমরা বৈশাখেই শুধু একটি মোটিভ নিয়ে কাজ করি। এবারে বিবিয়ানা কাজ করেছে আলপনা নিয়ে। আমরা এর নাম দিয়েছি পোশাকে বাঙালি আলপনা। আলপনায় ফুটিয়ে তুলেছি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা, পাজামা-পাঞ্জাবি। সেই সঙ্গে আছে শিশুদের পোশাক, গহনা, ব্যাগ ও গৃহসামগ্রী পণ্য।

বৈশাখী ও সামার কালেকশনে বিবিয়ানায় রয়েছে বাচ্চাদের পোশাক, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি। পোশাক ছাড়াও আছে গয়না, ঘর সাজানোর উপকরণ।

দেশিদশ

দেশিদশের দশটি প্রতিষ্ঠানই বৈশাখের সম্ভার সাজিয়েছে নানান রঙে আর বর্ণে। পোশাক ছাড়াও ক্রেতার জন্য রয়েছে বিভিন্ন অ্যাক্সেসরিজ, গয়না, হোমটেক্সটাইল ও উপহার সামগ্রী।

দেশিদশের শোরুম চত্বরে এলে ক্রেতারা পাবেন ফ্যাশন হাউস নিপুণ, কেক্র্যাফট, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, বাংলার মেলা, সাদাকালো, বিবিআনা, দেশাল, নগরদোলা ও সৃষ্টি।

বিশ্বরঙ

আলপনার মোটিফ সূর্য, চালের দানা, পেচা, মই, লাঙ্গল, দেবী, মাছ, পানের পাতা পোশাকের ক্যানভাসে তুলে এনেছে জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ। এবারের বৈশাখী সম্ভারে রয়েছে শাড়ি, সেলোয়ার- কামিজ, পাঞ্জাবি, ব্লাউজ ও স্কাট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here