নুসরাত হত্যার সুবিচার নিয়ে নজরুলের সংশয়

0
35

ঢাকা , ১৩ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে কি না এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এই ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত বলে দাবি করেন করেন তিনি।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন নজরুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

নুসরাতের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোন নুসরাত যখন লাঞ্ছিত হয় এবং লাঞ্ছনার অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, এখন তো মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে দেখি না। আজকে আমরা শুনি নুসরাতকে যারা লাঞ্ছিত করেছে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকরা আছে। তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সখ্য ক্ষমতাসীন দলের। আমরা দাবি করবো, নুসরাতকে লাঞ্ছনাকারী সে যেই হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু হবে কি না জানি না।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। যে দেশে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, মা-বোনরা কারও দ্বারা লাঞ্ছিত হবে না। সে ধরনের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সে বাংলাদেশে যখন ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়- এটা আমার কথা না স্বৈরাচার কায়েম হয়, এটাও আমার কথা না। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবার সমাজতন্ত্রকে সংবিধানে পুনর্বহাল করেছে। যদি তাই হয় তবে দেশে তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রচলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে কী? বাংলাদেশের সবাই জানে এটা একটা মুক্তবাজারের দেশ। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রেস কনফারেন্স করে সেটা জাতিকে জানিয়েছে তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আর সংবিধানে লেখা সমাজতন্ত্র- এই যে দ্বিমুখী নীতি এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। এটা তো গ্রহণযোগ্য না।’

খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ করেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি। কিন্তু তাকে জেলে দেওয়া তো বন্ধ করতে পারি না।’

নজরুল বলেন, ‘আজকে আইন বিভাগ পর্যন্ত সরকার তাদের অধীনস্থ করে ফেলেছে। এটাই ফ্যাসিবাদের চরিত্র, তাই করে তারা। আজকে আমরা রাজনীতি করবো বিএনপির, আমাদের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না। আমার প্রতিপক্ষ হলো পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি। আমি একটা মিছিল-মিটিং করতে গেলে আমার সামনে তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাঁড়ায় না। এই যে রাষ্ট্রকে বিরোধী রাজনীতির প্রতিপক্ষ বানানো এটাকেই বলে ফ্যাসিবাদ, এটাই হলো স্বৈরাচার।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কর্মজীবী দল কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাহউদ্দিন খান এবং মো. আলতাফ হোসেন সরদার প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here