আগামী বাজেট ও রাইড শেয়ারিং ভাবনা

0
18

ঢাকা , ১৩ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক খাতে মোট ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যা ছিল মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশ। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাতাল রেল, সড়ক বহুমুখীকরণ সহ বর্তমানে দেশে অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তা গত কয়েকটি বাজেটে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ফলস্বরূপ। বর্তমান সরকার এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের মাধ্যমে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে আরো গতিশীল ও ডিজিটালাইজ করতে বদ্ধ পরিকর। যার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭’ প্রণয়ন।

পরিবহন সেক্টরে ডিজিটালাইজেশনের সুবাতাস বইতে শুরু করে এ দেশে রাইড শেয়ারিং সেবার আবির্ভাব হওয়ার পর থেকে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বদলে দিচ্ছে গতানুগতিক পরিবহন ব্যবস্থার ধ্যান-ধারণাকে। সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মান্ধাতার আমলের লক্কর-ঝক্কর পরিবহন ব্যবস্থা থেকে। রাইড শেয়ারিং সেবাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এ শহরের সাধারণ মানুষ, যার ফলসুরূপ দিন দিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ সেবাটি। বর্তমানে এই সেবাখাত যে ভূমিকা রাখছে:

১.প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরে প্রায় ৩ হাজার গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

২.এক লক্ষ্য চালকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থা করছে।

৩.টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অবদান রাখছে।

৪.অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তীব্র আয়-বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখছে।

৫.বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করছে।

৬.কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।

৭.তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে গতানুগতিক পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের দর্শন হবে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বান্ধব। ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান ছাড়াও গ্রাম উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে।’ সবচেয়ে মজার বিষয় হলো গত দুটি অর্থবছরে রাইড শেয়ারিং খাত থেকে অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর বাজেটের সেই দর্শনকে সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সরকারের যে বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে সেখানে লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখা রাইড শেয়ারিং খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রাইড শেয়ারিং সেবার অবকাঠামোগত উন্নয়নে আসছে বাজেটে যে বিষয়গুলোর উপর জোর দিতে হবে:

১.রাইড শেয়ারিং সেবার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।

২.চালকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে।

৩.রাইড শেয়ারিং এ কর-ভ্যাট অব্যাহতি দিতে হবে।

৪.ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

৫.এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

৬.কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে।

সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নও আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তি নির্ভর রাইড শেয়ারিং খাতে প্রণোদনা দিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের মূল দর্শন ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান হোক আমাদের আগামীর বাজেট ভাবনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here