সারাদেশ

নিমসার কাঁচাবাজার রণক্ষেত্র সংঘর্ষ গোলাগুলি

ঢাকা , ১৬ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার নিমসারে ইজারাদারদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৩ জন আহত হয়েছেন।

পহেলা বৈশাখ রোববার ভোর থেকে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকালে কয়েক দফা সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ রাউন্ড গুলি করে পুলিশ। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে ভুগছেন।

বিকাল ৪টায় বাজারের ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ এলাকার সহস্রাধিক লোক একত্রিত হয়ে নিমসার বাজার রক্ষা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মহাসড়কে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দেশের বৃহৎ পাইকারি কাঁচামালের জন্য বিখ্যাত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ভেজিটেবল সিটি হিসেবে পরিচিত নিমসার কাঁচাবাজার। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা লেনদেন হওয়ায় বাজারটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লাসহ আশপাশ জেলার হাজার হাজার কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান এ বাজারটি।

ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটি ইজারা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বিবদমান গ্রুপ ও খাজনা আদায়ে অরাজকতাসহ নানা কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়ের রশিদ বা সাইনবোর্ড না থাকায় কয়েক বছর ধরেই বাজারে অনিয়ম ও জুলুম চলছে বলে অভিযোগ বাজারের ব্যবসায়ীদের। ইজারাদারদের রেষারেষিতে দুই-তিনগুণ বেশি টাকায় ইজারা নিয়ে সে টাকা আদায় করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে। আর এ খাজনা আদায় নিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। সোমবারের ঘটনার বিষয়ে নিমসার বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও ইজারাদার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বাজারের ইজারাদার ময়নামতি ইউপি এলাকার আকাবপুর গ্রামের মামুনুর রশিদ বলেন, গত বছর বাজারটি ইজারা নিয়ে তিনি ২ কোটি লস গুনেছেন। সোমবার ভোরে মাছ বাজারে খাজনা আদায় করতে গেলে আমার লোকদের ওপর হামলা চালায় জিলানী, হাফেজ, আলমগীর, বাবু, শাহীন, ফারুক, মারুফ, ফয়সালসহ ২০-২৫ জন। এ সময় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ময়নামতি হরিণধরা এলাকার মিন্টু (৩৫) নামে আমার এক কর্মচারীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি বর্তমানে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ বিষয়ে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মোকাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল কাদের জিলানীর পাল্টা অভিযোগ, মামুন বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে বাজারের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করছেন। দেশের শীর্ষ ইয়াবা ও মাদক কারবারি মামুন এ বাজারের ব্যবসায়ী বা এলাকার বাসিন্দা নয়। বাজারের খাজনা আদায়ের অন্তরালে ইয়াবা কারবার করতেই তিন-চার গুণ বেশি টাকায় বাজার ইজারা নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর জোর-জুলুম করে বাজার ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন।

আমার পৈতৃক মালিকানাধীন মার্কেট থেকে খাজনা আদায় করতে এসে সোমবার সকালে বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের মারধর করে। এতে বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মামুনের বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনীর মারধরে আড়তের একজন লেবার ও ব্যবসায়ীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

মোকাম যুবলীগের সভাপতি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিটি ব্যাংক নিমসার এজেন্ট শাখার চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, বহিরাগত চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মামুন বাহিনী লাখো লোকের কর্মসংস্থান ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন। অধিক টাকায় ইজারা এনে মাদক ব্যবসার কালো টাকা সাদা করতে প্রতিনিয়ত মাদকের বড় বড় চালান এনে এলাকার যুবসমাজকে নষ্ট করছেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষক বাজারটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমরা এলাকাবাসী বাজারটি রক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। মামুন ও তার মাদক বাহিনীর হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিসি, এসপি ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও এমপি মহোদয়সহ সবার কাছে জোরালো দাবি জানাই।
বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাবেক মেম্বার হুমায়ুন কবির বলেন, বাজারটি বহুলোকের কর্মসংস্থান। একটি মাদক ব্যবসায়ী ও বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্র দুই বছর ধরে বাজারে নানা অনিয়ম ও লুটপাট চালিয়ে বাজারটি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এসব অনিয়ম ও অত্যাচার নিয়ে ডিসি মহোদয়সহ ইউএনও মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বাজারটি যেন নষ্ট না হয়- এসব বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী কৃষক শ্রমিক সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এ বাজার আমাদের রুটি-রুজির জায়গা। এ নিয়ে কোনো পাঁয়তারা করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও মহোদয়সহ সবার কাছে ঐতিহ্যবাহী নিমসার পাইকারি কাঁচামাল ও ফলের বাজারটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আনোয়ারুল হক বলেন, সোমবার ভোরে ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের খাজনা আদায়ের দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে দ্বন্দ্ব^ নিরসনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button