অর্থ ও বাণিজ্য

‘টেকসই উন্নয়নে পরমাণু শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য’

ঢাকা , ২২ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

এটমএক্সপো ২০১৯- এ অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার অবকাশসহ সোচিতে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক ফোরাম এটমএক্সপোর এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘নিউক্লিয়ার ফর বেটার লাইফ’।

ফোরামটির আয়োজন করছে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন- রসাটম। দুইদিন ব্যাপী ফোরামটিতে বাংলাদেশসহ ৭৪টি দেশের ৩ হাজার ৬০০ এর অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

এবারের ফোরামে অংশগ্রহণকারীরা পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা শাস্ত্র, কৃষি খাত, মহাকাশ ও মেরু অঞ্চল গবেষণা এবং অর্থনীতির এনার্জি ভিত্তি সুদৃঢ়করণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে রসাটমের মহা-পরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ বলেন, ‘জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সকল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পরমাণুর শক্তিপূর্ণ ব্যবহার ওতপ্রতোভাবে জড়িত। জীবনমান উন্নয়ন, সমৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশের প্রতি যুক্তিযুক্ত আচরণের ক্ষেত্রে গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরমাণু প্রযুক্তি’।

এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশসমূহ বিশেষ করে চীন এবং ভারতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নির্বাহী অফিসের ফার্স্ট ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং রসাটম রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশনের সুপারভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সের্গেই কিরিয়েনকা তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন অনেক দেশ এটা উপলব্ধি করতে পারছে যে পরমাণু প্রযুক্তি বর্তমানে অতি আবশ্যকীয় একটি বিষয়। এটা স্বীকার করতেই হবে যে মানবজাতির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই’।

আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা ১১০ কোটি এবং ২৯০ কোটি লোকের ক্লিন রান্না সুবিধা নেই (এর অর্থ হচ্ছে এমন কোন ব্যবস্থা নেই যাতে জ্বালানি কাঠ ব্যবহৃত হয় না)। বিশেষজ্ঞদের মতে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিশাল জনগণকে ক্লিন এনার্জি সুবিধার আওতায় আনার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করা সম্ভব।

নিউক্লিয়ার এনার্জি অ্যাজেন্সির মহাপরিচালক উইলিয়াম ডি. ম্যাগউড এর মতে, ‘নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির সম্পূরক হচ্ছে পরমাণু শক্তি, যা একইসঙ্গে এই প্রযুক্তির সবিরাম উৎপাদন ঝুঁকি কমিয়ে আনা ছাড়াও অধিকতর নিশ্চিত এবং কার্বনবিহীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরিতে সহয়তা করে। বর্তমানের চ্যালেঞ্জিং মার্কেটে পরমাণু শক্তির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের টেকসই এনার্জি মিক্সে যাতে অবদান রাখতে সক্ষম হয় সে জন্য এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত’।

ইত্তেফাক/এমআই

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button