সারাদেশ

তাঁতী লীগ নেতার ভয়ে ২০ পরিবার দেড় মাস পুরুষশূন্য

ঢাকা , ১১ জুন , (ডেইলি টাইমস২৪):

সন্ত্রাসী তাণ্ডবে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ২০ পরিবার দেড় মাস ধরে পুরুষশূন্য রয়েছে। নারীরা রাতের বেলা থাকছে পুলিশ প্রহরায়। পরিবারগুলোর শিশুরা রয়েছে আতঙ্কে। পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাদের লেখাপড়া বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।

চিতলমারী সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দুই নারী।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চিতলমারী উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন খিলিগাতী গ্রামের শওকাত ফকিরের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম। তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওসমান হাওলাদারের ভাতিজা রবিউল হাওলাদারের সাথে আমার স্বামীর সাথে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার আহত রুবেল হাওলাদার মারা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী আমাদের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও মামলা করে। ২০টি পরিবারের চিংড়ি ঘের হতে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ লুট করে। ওদের হামলার ভয়ে পরিবারগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।

তিনি আরো জানান, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ২০০৫ সালে জনতার গণপিটুনিতে ইমরান ও সিরাজ হাওলাদারের ভাই টাইগার হাওলাদার নিহত হয়। টাইগার নিহত হওয়ার পরে রায়গ্রাম, খিলিগাতী, খড়িয়া-আড়ুলিয়া, চিতলমারী সদর ও বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংগা এলাকায় এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় ১৫ জন সদস্য বিভিন্ন সময় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়। এ ঘটনায় চরমপন্থী সন্ত্রাসী সাময়িক সময়ের জন্য গা ঢাকা দিলেও তারা এখন এলাকায় সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদার জানান, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের ছাত্র রুবেল হাওলাদার হত্যা মামলা হতে মুক্তি পেতে ওরা সংবাদ সম্মেলনসহ নানা তালবাহানা করছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button