প্রবাসের খবর

তৃতীয় বাংলাখ্যাত লন্ডনে ইউরোপের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত

ঢাকা , ০২ জুলাই , (ডেইলি টাইমস২৪):

বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা, লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস’ কাউন্সিলের উদ্যোগে শেষ হয়েছে ইউরোপের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা। রবিবার পূর্ব লন্ডনের উইভার্স ফিল্ডে অনুষ্ঠিত মেলায় অন্য বছরের তুলনায় লোক সমাগম কম হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু জনসমাগম ঘটে। প্রতি বছর মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচার থাকলেও এবার ছিল তুলনামূলক কম।

নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই ব্রিটেনে টানা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চললেও আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর মূল উৎসব হয় ব্রিটিশ সামার টাইমে, যা বাংলাদেশের মধ্য আষাঢ়। সারাবছর যে মিলন মেলাটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন পুরো ইউরোপের প্রবাসী বাঙালিরা, সেই কাঙ্খিত মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার। বছরের কাঙ্খিত এ দিনটি এবারও উপভোগ করেছেন ব্রিটেনসহ ইউরোপে বসবাসরত গৃহাকূল বাঙালিরা। মধ্য আষাঢ়ে তৃতীয় বাংলাখ্যাত টাওয়ার হ্যামলেটসের উইভার্স ফিল্ডে আয়োজিত বাঙালির প্রাণের এ উৎসব বৈশাখী মেলায় জড়ো হয়েছিলেন শিকড় পাগল বাঙালিরা। মেলায় জড়ো হয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ তরুণীও।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে বাঙালিরা সবচেয়ে বড় এ মিলনমেলা ব্রিটিশ মূলধারায় স্বীকৃত অন্যতম বড় কার্নিভ্যাল।উপচেপড়া ভিড় ছিল মেলায়, ছিল বাংলাদেশ থেকে আগত ও স্থানীয় শিল্পীদের মঞ্চ মাতানো পরিবেশনা।

মেলায় দর্শকদের মাতাতে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী লাভলী দেব, ইমরান ও বেলি আফরোজ। ছিলেন সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের হার্টথ্রব শিল্পী, আরবান রাইজিং স্টার নিশসহ স্থানীয় শিল্পী আলাউর রহমান, হাসি রানি, আমির মোহাম্মদ ও সুজানা আনসার। মঞ্চ উপস্থাপনায় ছিলেন রনি মির্জা ও বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের নাদিয়া আলী।
মেলায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি রোশনারা আলী, লন্ডনে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ জুলকারনাইন, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস, ডেপুটি স্পিকার আহবাব হোসেইন, কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলামসহ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধিকাংশ কাউন্সিলার, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে মেলা শুরু হয় বেলা ১২টায়। টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালি গিয়ে মিশে ওয়েভার্স ফিল্ডে। এরপরই মেলার মূল মঞ্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিবেশন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

লন্ডনের স্থানীয় কিছু সংগঠন মূল মঞ্চের বাইরে আলাদাভাবে করেছে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগঠনগুলোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় ছিল বাঙালি সংস্কৃতির অকৃত্তিম ছোঁয়া। ব্রিটিশ-বাংলা চেস অ্যাসোসিয়েশন বিশাল আকারের একটি দাবা সেট সামনে রেখে সাজিয়েছিলো তাদের স্টল। বসেছিলো খাবারসহ রকমারি পণ্যের দোকান।

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপভোগ করে এক সময় অনিচ্ছা সত্বেও ভাঙতে হয় মিলন মেলা। পুরো নতুন বছরটিই যেন সুন্দরে অবগাহন করে করেই অতিবাহিত হয়, বৈশাখী রঙ্গের হাওয়ায় ভেসে ভেসেই যেন আরেকটি বছরের সীমানা দ্বারে পৌছা যায়, এমন প্রার্থনা করে করেই অবশেষে বাড়ির পথ ধরেন সবাই।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button