আইন ও আদালত

যে ছবির কারনে গ্রেফতার হলেন ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস!

ঢাকা, ৮ জুন ( ডেইলি টাইমস্২৪) :

১২ মে সকালে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। ১৩ মে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সুবজ সিলেট-এ খুনের ঘটনার একটি ছবি ছাপা হয়।যাতে দেখা যায় নিজ বাসার সামনে মাটিতে পড়ে আছে অনন্ত’র রক্তাক্ত দেহ। মাথা থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। পাশেই বসে আহাজারি করছেন অনন্তর বোন।

সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে ৪ দুর্বৃত্ত অনন্তকে কুপানোর পর কয়েক মিনিট মাটিতে পড়েছিলেন। তারপরই তাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। মূলত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরই অনন্ত’র উপর হামলার খবর পান তার সহকর্মী ও সাংবাদিকরা।

তবে সবুজ সিলেটে ছাপা হয় হামলার পর ঘটনাস্থলেই অনন্ত’র দেহ পড়ে থাকার ছবি। হত্যাকাণ্ডের সাথেসাথেই ধারণ করা ছবিটি একটি ভালো ক্যামেরায় তোলা হয় বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। যদিও সবুজ সিলেট-এ ছাপা হওয়া ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করে হয়- ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।তবে ফেসবুকে এই ছবির কোনো হদিস পাওয়া যায় নি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।

বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে মামলাটি হস্তান্তর হওয়ার পর এই ছবির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

তদন্তের খাতিরে সবুজ সিলেট-এ ছাপা হওয়া ছবিটি ফেসবুকে সন্ধান চালান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সেখানে এই ছবির কোনো হদিস পান নি তারা।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ফেসবুকের সূত্র দিয়ে ছাপা হওয়া ছবিটি তুলেছিলেন সবুজ সিলেট’র আলোকচিত্র সাংবাদিক ইদ্রিস আলী। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই রোববার রাতে নিজ বাসা থেকে ইদ্রিসকে আটক করা হয় বলে সিআইডির কর্মকর্তারা জানান।

আটকের পর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইদ্রিসকে। সোমবার দুপুরে হাজির করা হয় আদালতে। সেখানে তার ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

আদালতে দেওয়া রিমান্ডের আবেদনপত্রে অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো। পত্রিকায় ছাপা হওয়া ছবিটি ঘটনাস্থল থেকে ইদ্রিস তুলেছেন বলে আদালতকে জানান তিনি।

ইদ্রিস ঘটনার সাথেসাথেই কিভাবে ঘটনাস্থলে পৌছলেন, কারা তাকে এ খবর দিলো রিমান্ডে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button