জাতীয়

বাংলাদেশের অর্জন অস্পষ্ট: মোদীর আগ্রহেই বিএনপির সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশে দু’দিনের সফর শেষ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর এ সফর নিয়ে বাংলাদেশ সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক দল, সরকারি দলসহ প্রায় সব শ্রেণী-পেশার লোকদের কৌতুহল ছিল অনেক। সফর শেষ হওয়ার পর পরই শুরু হয় প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেব-নিকেশ। ঐতিহাসিক এ সফরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন হয়েছে- বলা হলেও বাংলাদেশের অর্জনগুলো অস্পষ্টই রয়ে গেছে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি এখনো আশ্বাসেই থেকে যাওয়ায় মন ভেঙেছে এ দেশিদের।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও মোদীর এ সফরকে খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলো। তাই প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই মোদীর সফর পরবর্তী সময়ে লাভ-লোকসান গুণতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি মোদীর সফরে রাজনৈতিক লাভ-লোকসান সুক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক মিত্ররাও হিসেব নিকেশেই রয়েছেন। তবে মোদীর সফর পরবর্তী সময়ে দু’দেশের মধ্যে লাভ-লোকসান নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠলেও এ বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষই সরাসরি কোনো বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত রয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক ছিল খুবই আলোচিত বিষয়। মোদী-খালেদা বৈঠক হবে কি হবে না তা নিয়ে গণমাধ্যমও ছিল সতর্ক। বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মোদীর সঙ্গে বৈঠক হওয়া নিয়ে জানতে চাইলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি। সব শেষ গত ৫ জুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নরেদ্র মোদীর বৈঠক হচ্ছে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দেন, মোদী-খালেদা বৈঠক হচ্ছে।

অবশ্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য (যিনি দলটির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কাজ করেন) এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় না বাংলাদেশে গণতন্ত্র সচল থাকুক। আর সেই কারণেই মোদী খালেদা বৈঠক নিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে তারা। তিনি বলেন, তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি দেশের সবচাইতে বড় রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়া না হওয়া নিয়ে সরকার নানা রকমের গুজব ছড়িয়েছিলো।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক শুধু বিএনপি নয়, মোদীর আগ্রহেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে ছিল যাতে ঐতিহাসিক এ বৈঠকটি না হয়। নরেন্দ্র মোদীর আগ্রহে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক হওয়ার মধ্যেই অনেক কিছু ইঙ্গিত করে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এ নেতা।

মোদী-খালেদা একান্তে ১৫ মিনিট কি আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের লোকেরা স্পষ্ট করে কিছু না বলায় জনগণের কৌতুহল বেড়েই চলেছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বিষয়ে বিএনপি-মোদী আলোচনা হয়েছে তার কোনটার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক সীমার মধ্যে থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন মোদী।

প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে বিভিন্ন বিষয়ে ২২টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত এখনো জানেন না দু’দেশের নাগরিকরা। এসব চুক্তির মধ্যে ভারতকে ট্রানজিট, মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ কি সুবিধা পেল তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। আর স্থলসীমান্ত চুক্তি যেটি হয়েছে তা হওয়ার কথা ছিল আরও ৪১ বছর আগে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button