জাতীয়

জ্যামে পড়ে জোড়া খুন করল আওয়ামী এমপির ছেলে: অসহায় পুলিশ

ঢাকা, ১০ জুন ( ডেইলি টাইমস্২৪) :

নিরীহ দুইজন মানুষকে গুলি করে হত্যার প্রায় দেড় মাস পর গ্রেফতার হলেন মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনির এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়েছিলেন একজন অটোরিকশাচালক এবং একজন রিকশাচালক।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বলেছে, ঘটনার সময় বখতিয়ার নেশাগ্রস্ত ছিলেন।

অভিযুক্ত যুবক নয় দিন আগে গ্রেপ্তার হলেও পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি সাংসদের ছেলে বলে।

এ ঘটনার পর থেকে সাংসদ পিনু খান গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তার সঙ্গে যোগযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন নিসিভ করেন না।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, এ মামলায় গত ৩১ মে বখতিয়ার ও তাঁর গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বখতিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। ১ জুন তাঁর রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলেও ‘অসুস্থতার’ কারণে তাঁকে হেফাজতে নিতে পারেনি ডিবি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বখতিয়ারের বিরুদ্ধে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ও তাঁর গাড়িচালক দুজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। বখতিয়ার অসুস্থতার ভান করে কালক্ষেপণ করেছেন। হাসপাতালে পরীক্ষা করে তাঁর কোনো রোগ পাওয়া যায়নি। তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্ত হলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, চাপ সৃষ্টি করে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন।

ওই রাতের গুলিতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম প্রথমে আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাকিম ১৫ এপ্রিল বিকেলে এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। ইয়াকুব দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক ছিলেন। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম। এজাহারে তিনি গাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি গুলি চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন, তবে গুলিবর্ষণকারীর নাম-বর্ণনা বা গাড়ির বর্ণনা উল্লেখ করেননি।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে রমনা থানার পুলিশ। থানার পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ছায়া তদন্ত করে। ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা গুলিবর্ষণকারীর ও তাঁর গাড়ির বর্ণনা পান।

২৪ মে মামলার তদন্তভার পায় ডিবি। এরপর ডিবি পুরোপুরি মাঠে নামে। তদন্তকারীরা গুলিবর্ষণকারী ও তাঁর গাড়ি শনাক্ত করতে তথ্যদাতা নিয়োগ করেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেন। তাঁরা বখতিয়ারের প্রাডো গাড়িটি শনাক্ত করেন এবং গাড়িটির চালকের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

৩১ মে দুপুরে ধানমন্ডিতে বখতিয়ারের বাসার কাছ থেকে গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে আটক করা হয়। তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইমরান জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দেন, ১৩ এপ্রিল রাতে নেশাগ্রস্ত বখতিয়ার তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে বখতিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল, পিস্তলের ২১টি গুলি ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বখতিয়ার বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এক বন্ধুকে মগবাজার মোড়ে নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বাংলামোটরের দিকে যাচ্ছিলেন। নির্মাণাধীন এলএমজি টাওয়ারের সামনে যানজটে আটকা পড়ে গাড়ি। এতে বিরক্ত হয়ে তিনি গাড়ির জানালা খুলে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। পিস্তলটির ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদস্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এখনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। বখতিয়ারের প্রাডো গাড়িটি জব্দ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, ১ জুন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইমরানও একই ধরনের কথা বলেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিন বখতিয়ারকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর ১ জুন সন্ধ্যায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানান। প্রথমে তাঁকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে এবং সেদিনই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ জুন পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৬ জুন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে আদালতে নেওয়া হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বখতিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button