জাতীয়

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের তদন্ত না হওয়া লজ্জাজনক: গিবসন

ঢাকা,১১ই জুন (ডেইলি টাইমস ২৪) :

নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত মন্তব্য করে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আহ্বান সত্ত্বেও সে নির্বাচনের তদন্ত না হওয়া লজ্জাজনক।

তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এ সময় ডিক্যাব সভাপতি মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ উপিস্থত ছিলেন।

গিবসন ব্লগার হত্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা মুক্তমত প্রকাশের চর্চা করেন, তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং ভীষণ উদ্বেগের।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এবং বিশ্বে ব্লগার হত্যার ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার। সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের অন্য রকম উপাদান।’

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ অনেক বৈশ্বিক ফোরামের সদস্য বাংলাদেশ। এই ফোরামগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে- মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ধৈর্য্য, শ্রদ্ধা এবং সহিষ্ণুতার সঙ্গে দ্বিমতকে মোকাবিলা ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তম রাষ্ট্র। বাংলাদেশকে মানুষের অধিকারের এই মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে গিবসন বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত, তবে একমাত্র নয়। এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জড়িত। গণতন্ত্র হচ্ছে, প্রতিদিনের জবাবদিহিতা।’

তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের দিন সকালে পর্যবেক্ষণ করে সুষ্ঠু পরিবেশ পাওয়ায় স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি সারাদিন সেই সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকেনি। ফলে দুপুরে বিএনপিও নির্বাচন বর্জন করে। তাদের নির্বাচন বয়কট ছিল দুর্ভাগ্যজনক।’

গিবসন বলেন, ‘এরপরেও আমরা আশা করেছিলাম, যেসব ইস্যুতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, তার তদন্ত হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি হয়নি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

তবে তিনি আশা করেন, নির্বাচিত মেয়ররা তাদের কাজের মাধ্যমে ঢাকাকে আদর্শ নগরীতে পরিণত করবেন।

এ সময় যুক্তরাজ্য টেকসই গণতন্ত্রের জন্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপকে সব সময় উৎসাহিত করে বলেও জানান গিবসন।

তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রশংসা করে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তবে এতকিছুর পরেও মানুষ গণতন্ত্রেরই পক্ষে রয়েছে, যা খুবই ইতিবাচক।’

এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আর দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাটা জরুরি।’

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সবার সঙ্গে বন্ধুতা, কারো সঙ্গে বৈরীতা নয়- এই পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিবসন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ন্যায় বিচার, গণতন্ত্রের চর্চা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে থাকা দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলোর সমাধান করবে। তাহলে বাংলাদেশ যে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে।

গিবসন বলেন, বাংলাদেশকে শিক্ষা এবং উন্নয়ন এই দুটি খাতে জোর দিতে হবে। শিক্ষা এবং উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশ প্রগতি ও শান্তির পথে এগোতে পারে না। আশা করব বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button